
বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বড় চমক এমজি-র, ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস মডেলে দাম একধাক্কায় কমল
প্রিমিয়াম বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমাতে ‘ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস’ মডেল চালু করল জেএসডব্লিউ-এমজি মোটর। এর ফলে সাইবারস্টার ও এম৯-এর দাম কমে শুরু হচ্ছে ৬৯.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে।
ভারতের প্রিমিয়াম বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল জেএসডব্লিউ-এমজি মোটর। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে দ্বিধাবোধ করেন, সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এবার এক অভিনব মালিকানা মডেল নিয়ে এল সংস্থাটি। তাদের ফ্ল্যাগশিপ মডেল এমজি সাইবারস্টার (MG Cyberster) এবং এমজি এম৯-এর জন্য চালু করা হয়েছে ‘ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস’ (BaaS) পরিষেবা। এর ফলে গাড়ির মূল দাম অনেকটা কমেছে এবং এখন থেকে এই গাড়িগুলি পাওয়া যাবে মাত্র ৬৯.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে।
সাধারণত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট দামের একটি বড় অংশ থাকে তার ব্যাটারির। এই নতুন মডেলে ক্রেতাদের পুরো গাড়ির দাম একবারে দিতে হবে না; ব্যাটারির খরচটি আলাদা করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিক কেনাকাটার সময় ক্রেতার পকেটে চাপ কমবে। ব্যাটারির জন্য একটি নির্দিষ্ট মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে ক্রেতাকে। এই কৌশলের মাধ্যমে এমজি মোটর প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বাজার আরও বড় করতে চাইছে, যাতে উচ্চবিত্ত ক্রেতারা আরও সহজে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গাড়িগুলি কিনতে পারেন।
এমজি সাইবারস্টার তার স্পোর্টি লুক এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ইতিমধ্যেই চর্চায় রয়েছে। অন্যদিকে, এমজি এম৯ একটি বিলাসবহুল ফ্যামিলি কার হিসেবে পরিচিত। এই দুটি গাড়িতেই এখন থেকে ব্যাটারি সাবস্ক্রিপশন মডেল কার্যকর হবে। সংস্থার দাবি, এর ফলে কেবল দামই কমছে না, বরং ব্যাটারির রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতার দায়িত্বও সংস্থার কাছে থাকছে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি নিশ্চিন্তির কারণ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসারে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারির আয়ু কমে যাওয়া বা পুরনো হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, যা ক্রেতাদের পিছিয়ে দেয়। কিন্তু সাবস্ক্রিপশন মডেলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ফলে বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জেএসডব্লিউ-এমজি মোটরের এই নতুন ব্যবসায়িক কৌশল প্রিমিয়াম কার মার্কেটে এক নতুন লড়াই শুরু করল। দাম কমানোর পাশাপাশি পরিষেবার মান বজায় রেখে তারা কীভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে, এখন সেটাই দেখার। বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই ধরণের উদ্ভাবনী মডেলের ওপর।




