
এসইউভি-র দাপট থাকলেও ফের ফিরছে হ্যাচব্যাক, বিক্রিতে বিরাট লাফ মারুতির
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে মারুতি সুজুকির হ্যাচব্যাক বিক্রি ৪১% এবং এসইউভি বিক্রি ৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় বাজারে ছোট ও বড়— উভয় ধরণের গাড়ির প্রতিই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।
ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে এক চমকপ্রদ বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যেমন এসইউভি (SUV) গাড়ির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, ঠিক তার পাশাপাশি মধ্যবিত্তের পছন্দের হ্যাচব্যাক গাড়িগুলোর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। দেশের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা মারুতি সুজুকির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির বিক্রির গ্রাফে এসেছে অভাবনীয় উত্থান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মারুতি সুজুকির হ্যাচব্যাক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হচ্ছিল যে, বড় গাড়ির প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ায় ছোট গাড়ির বাজার সংকুচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি প্রমাণ করল যে, শহরের ভিড় ঠেলে যাতায়াত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে সাধারণ ক্রেতারা এখনও হ্যাচব্যাকের ওপর ভরসা রাখছেন।
তবে কেবল হ্যাচব্যাক নয়, এসইউভি সেগমেন্টেও মারুতির জয়জয়কার অব্যাহত। এই বিভাগে বিক্রির হার বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৬ শতাংশ। আধুনিক ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং রাস্তার খানাখন্দ জয় করার ক্ষমতা— এই সব মিলিয়ে এসইউভি এখন আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুই বিভাগেই বড়সড় লাভ করল সংস্থাটি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং শহরের সংকীর্ণ রাস্তার কথা মাথায় রাখলে হ্যাচব্যাক গাড়ির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। পাশাপাশি, মারুতির শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং সহজলভ্য যন্ত্রাংশের কারণে সাধারণ মানুষ এই ব্র্যান্ডের প্রতি অধিক আস্থা রাখছেন। আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মারুতি সুজুকির এই সাফল্য ভারতীয় গাড়ির বাজারের বর্তমান মানসিকতাকে প্রতিফলিত করছে। একদিকে যেমন বিলাসবহুল বড় গাড়ির প্রতি টান বাড়ছে, তেমনই বাস্তবসম্মত এবং সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য ছোট গাড়ির প্রয়োজনীয়তাও সমানভাবে বজায় রয়েছে। এই ভারসাম্য বজায় রেখে কোম্পানিটি আগামী দিনে তাদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে চাইছে।




