লাইসেন্স মিললেও ভারতে এখনও পিছিয়ে স্টারলিংক, মহাকাশ যুদ্ধে চীনকে টেক্কা দিতে ব্যর্থ মাস্ক
business1 দিন আগে১ মিনিট পড়ুন

লাইসেন্স মিললেও ভারতে এখনও পিছিয়ে স্টারলিংক, মহাকাশ যুদ্ধে চীনকে টেক্কা দিতে ব্যর্থ মাস্ক

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

লাইসেন্স এবং সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরেও ভারতে পরিষেবা শুরু করতে পারেনি ইলন মাস্কের স্টারলিংক। এই বিলম্বের সুযোগ নিয়ে মহাকাশ প্রযুক্তির দৌড়ে ভারতকে ছাপিয়ে এগিয়ে গিয়েছে চীন।

মহাকাশ প্রযুক্তির লড়াইয়ে ভারতকে টেক্কা দিতে মরিয়া ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তবে সব রকম সরকারি সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেও ভারতে পরিষেবা শুরু করতে দেরি হওয়ায় কার্যত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেল চীন। একদিকে যখন বেজিং-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করছে, তখন ভারতে স্টারলিংক এখনও অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। ফলে প্রযুক্তির এই দৌড়ে চীন এখন ভারতের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

নয়াদিল্লির সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টারলিংক ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং অনুমোদন লাভ করেছে। গত জুন মাসে জিএমপিসিএস (GMPCS) লাইসেন্স এবং জুলাই মাসে ইন-স্পেস (IN-SPACe)-এর নোড পাওয়ার পর মনে করা হয়েছিল, খুব দ্রুতই ভারতে পরিষেবা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং পরিকাঠামো তৈরির জটিলতার কারণে মাস্কের এই উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের এই বিলম্ব ভারতকে এক বড় সুযোগ দিতে পারত, কিন্তু সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চীন তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন দ্রুত স্থাপন করেছে। চীনের এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তারা কেবল নিজেদের দেশের ভেতরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরেও আধিপত্য বিস্তার করছে। ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ বিলম্বিত হওয়ায় ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে চীন এখন অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ভারতের বাজারে জিও বা এয়ারটেল-এর মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলোর উপস্থিতি স্টারলিংকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, মাস্কের কোম্পানি ঠিক কবে থেকে তাদের পরিষেবা চালু করবে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে মহাকাশ ভিত্তিক ইন্টারনেটের এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারত এবং স্টারলিংক— উভয়েই চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, লাইসেন্স এবং আইনি বাধা কাটিয়ে ওঠা এক দিক থেকে স্বস্তির, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেরি হওয়াটা চিন্তার বিষয়। প্রযুক্তির যুগে সময়ের মূল্য অপরিসীম। ভারত যদি দ্রুত এই পরিষেবা চালু করতে না পারে, তবে মহাকাশ অর্থনীতির এই লড়াইয়ে চীনকে পেছনে ফেলে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX