
উৎসবের মরশুমেও মন্দা! নবরাত্রিতে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি কমল ১৪ শতাংশ, নেপথ্যে কি জিএসটির প্রভাব?
নবরাত্রির মরশুমে সামগ্রিক গাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ বাড়লেও যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি ১৪ শতাংশ কমেছে। জিএসটির প্রভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রেতাদের অনীহা এই পতনের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উৎসবের মরশুম মানেই সাধারণত বাজারে কেনাকাটার জোয়ার। কিন্তু এবার সেই ছবিটা কিছুটা বদলে গেল অটোমোবাইল সেক্টরের ক্ষেত্রে। নবরাত্রির নয় দিনে ভারতের সামগ্রিক খুচরো গাড়ির বাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সামগ্রিক বিক্রি গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বাড়লেও, যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রিতে বড়সড় পতন দেখা গিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ, যা খোদ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ডিলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে জিএসটি বা পণ্য ও পরিষেবা করের প্রভাব অন্যতম। করের কাঠামো এবং গাড়ির ক্রমবর্ধমান দামের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। পাশাপাশি, মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অটোমোবাইল শিল্পের ওপর। উৎসবের মরশুমে সাধারণত যে ধরণের চাহিদার কথা আশা করা হয়, বাস্তব চিত্র তার থেকে অনেকটাই আলাদা।
তবে সব ক্ষেত্রে মন্দার ছবি নেই। যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি কমলেও বাণিজ্যিক যান এবং দুই চাকার গাড়ির বাজারে কিছুটা গতি দেখা গিয়েছে। ফলে সামগ্রিক খুচরো বিক্রিতে ২ শতাংশের সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও, ব্যক্তিগত গাড়ির বাজারের এই পতন দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অনেক ডিলার জানাচ্ছেন, শোরুমে ভিড় থাকলেও চূড়ান্তভাবে বুকিং করার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আসন্ন দীপাবলি এবং বড়দিন কি এই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারবে? অটোমোবাইল সংস্থাগুলি এখন বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় অফার এবং ডিসকাউন্টের কথা ভাবছে যাতে ক্রেতাদের পুনরায় আকৃষ্ট করা যায়। তবে করের বোঝা কমলে এবং সুদের হার স্থিতিশীল হলে তবেই এই মন্দা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। উৎসবের আলোয় বাজার উজ্জ্বল হলেও, গাড়ির বাজারের এই মন্দা এখন শিল্পের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ।




