
বারাসত হাটখোলায় গোডাউনে গোপনভাবে জমা সরকারি ত্রাণ ও সাইকেল
বারাসত হাটখোলার গোডাউনে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও হাজারো সাইকেল গোপনভাবে জমা পাওয়া গেছে। তদন্তে জানা যাবে এই অনিয়মের পেছনে কে এবং কীভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
বারাসত (উত্তর ২৪ পরগনা) পুরসভার ২৬‑নং ওয়ার্ডের হাটখোলা এলাকায় এক টানা গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এবং “সবুজ সাথী” প্রকল্পের সাইকেল গোপনভাবে জমা থাকা খবর উন্মোচিত হয়ে পুরো পাড়া জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, গুদামটিতে লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যমানের ত্রাণ সামগ্রী, যার মধ্যে অন্ন, স্যানিটারি সামগ্রী ও পোশাক অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি প্রায় দুহাজারটি সাইকেল রক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রীকে কোনো অফিসিয়াল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা নাগরিকদের মধ্যে সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্ন তুলেছে।
পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ত্রাণ সামগ্রীর গুদামজাতকরণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অনুমোদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে; ফলে কেবলমাত্র একসঙ্গে দু-তিনজনেরই এই সঞ্চয় সম্পর্কে জ্ঞান ছিল। তাছাড়া, সাইকেলগুলোকে “সবুজ সাথী” প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিতরণ করার কথা ছিল, তবে সেগুলো গুদামে আটকে রইতে দেখা গেছে, ফলে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
পুরসভার প্রতিনিধিরা দাবি করে বলেন, গোডাউনের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তদন্তের দায়িত্ব এখনই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে। তারা জানান, যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয় তবে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং ত্রাণ সামগ্রী যথাযথ দরকারি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে যাবে।
পৌরসভার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকও বিষয়টি নজরে নিয়ে তদন্ত আদেশ জারি করেছেন, যাতে সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। এধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, বারাসত হাটখোলার এই গোডাউনে সরকারি ত্রাণ ও সাইকেল গোপনভাবে জমা হওয়া বিষয়টি শুধু স্থানীয় নয়, পুরো রাজ্যের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্ন তুলেছে; দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তই একমাত্র সমাধান হতে পারে।



