
উত্তাল নদী, ভাঙা সেতু! ডুয়ার্সে কাঁধে পড়ুয়াদের নিয়ে নদী পার হচ্ছেন শিক্ষকরা
বৃষ্টির তীব্র প্রবাহে উত্তরবঙ্গের নদী ভাসমান, ভাঁড়া সেতু ভেঙে গেছে। শিক্ষকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পার করিয়ে দিচ্ছেন।
বৃষ্টির তীব্র প্রবাহে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, বাগমতি ও মধুমতি নদীর জলস্তর আজকাল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। ভুটান পাহাড়ে অব্যাহত বৃষ্টি তীব্রতায় তাড়া দিচ্ছে, ফলে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার কাছাকাছি সেতু ভেঙে পড়েছে এবং বাসগাড়ি-সাইকেল চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় অধিকারিক জানাচ্ছেন, সেতুর গঠন দুর্বল হওয়ায় বৃষ্টির স্রোতে তা আংশিকভাবে ভেঙে গিয়েছে, ফলে রপ্তবাহে সেতুর দু’পাশে প্রবাহিত জল হঠাৎই বন্যা‑ঝড়ের মতই বয়ে যাচ্ছে।
এ দৌড়ে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্থানীয় শিক্ষকগণ একে অপরের কাঁধে সন্তান‑সন্ততি তুলে নদী পার হচ্ছে। তারা একসঙ্গে গাছের ডাল, পাটের বেল্ট ও ঘন জাল ব্যবহার করে অস্থায়ী সেতু তৈরি করে, যেন শিক্ষার্থীরা জলে ভাসতে না পারে। এই উদ্যোগে শিক্ষকদিগকে সবার প্রশংসা পাচ্ছেন, কারণ তারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্নান‑সুবিধা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি রেলওয়ে ও সড়ক পরিষেবা দল দ্রুত কর্মে লিপ্ত হয়েছে এবং বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা হবে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর দুর্ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বাবা-মা ও সম্প্রদায়ের মানুষরা এই শিক্ষকদের নীরব ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়ে “ধন্যবাদ” জানাচ্ছেন।
অবশিষ্ট দিনগুলোতে বৃষ্টির অবস্থা কীভাবে চলবে তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সমাজের সমন্বয় শক্তি কতটা দৃঢ় হয়, তা আবার একবার প্রমাণিত হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, বৃষ্টি-ঝড়ের ভয়াবহতা সত্ত্বেও শিক্ষকদের মানবিক সেবা ও সমন্বিত কাজই এই অঞ্চলের সন্তান‑সন্ততির নিরাপদ শিক্ষা যাত্রা নিশ্চিত করবে।




