
অ্যাডমিট কার্ডের জন্য স্কুল গেটে ধর্না, আত্মহত্যার হুমকি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর, কেশপুরে তীব্র উত্তেজনা
অ্যাডমিট কার্ড না মেলায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর স্কুল গেটে ধর্না ও আত্মহত্যার হুমকি। কেশপুরে স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মুখে চরম উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা। শিক্ষা দফতরের উদাসীনতা আর স্কুলের লালফিতের ফাঁসে শেষ মুহূর্তে বিপাকে পড়লেন এক ছাত্রী। সোমবার থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে, অথচ হাতে নেই অ্যাডমিট কার্ড। এই চরম পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে স্কুল গেটেই ধর্নায় বসলেন ওই পরীক্ষার্থী। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, চরম হতাশ হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন ওই ছাত্রী। এই ঘটনায় কেশপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে ওই ছাত্রী তাঁর অ্যাডমিট কার্ড পাননি। বারবার স্কুলের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। পরীক্ষার আগের দিন এমন অনিশ্চয়তা ওই ছাত্রীর মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আশঙ্কায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং স্কুল প্রাঙ্গণে চিৎকার করে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বাসিন্দারা এবং অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। তাঁদের মতে, একজন ছাত্রীর কেরিয়ারের এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা দফতরের between সমন্বয়হীনতার কারণে যে এই বিভ্রাট ঘটেছে, তা স্পষ্ট। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই টানাপোড়েনের পর ওই ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ডের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনে দিল শিক্ষা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকে। পরীক্ষার মুখে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এমনিতেই প্রবল থাকে, তার ওপর এই ধরণের প্রশাসনিক জটিলতা তাঁদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। আশা করা যায়, এই ঘটনার পর শিক্ষা দফতর আরও সতর্ক হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরীক্ষার্থীকে এভাবে রাস্তায় বসতে না হয়।




