
স্বস্তির নিঃশ্বাস মধ্যবিত্তের! এক ধাক্কায় অনেকটাই কমল সোনার দাম, দোকানে ভিড় ক্রেতাদের
মিনিটজুন মাসের শুরুতেই এক ধাক্কায় অনেকটা কমল ২২ ও ২৪ ক্যারাট সোনার দাম। দামের এই পতন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের স্বস্তি দিয়েছে, যার ফলে কলকাতার জুয়েলারি দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
দীর্ঘদিন ধরে আকাশছোঁয়া সোনার দামের চাপে যারা পিছিয়ে ছিলেন, তাদের জন্য এল বড় সুখবর। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহান্তেই সোনার বাজারে এল বড়সড় পতন। ২২ ও ২৪ ক্যারাট— দুই ধরনের সোনার দামই এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে, যার ফলে খুশির হাওয়া এখন সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। বিশেষ করে বিয়ের মরসুমের কথা মাথায় রেখে যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত অনুকূল বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছু পরিবর্তনের প্রভাব এবার স্থানীয় বাজারে স্পষ্ট। সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার ফলে কলকাতার বড় বড় জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, দাম কমার অপেক্ষায় তারা বেশ কিছুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন, আর এখন সুযোগ বুঝে সোনা কিনে নিচ্ছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সোনা কেবল গয়না নয়, বরং ভবিষ্যতের এক নিরাপদ বিনিয়োগ, তাই দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে ডলারের মান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত করার প্রবণতা দামের এই ওঠানামায় বড় ভূমিকা পালন করে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মনে করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিন দামের এই নিম্নমুখী ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে সোনার দামের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাই সুযোগ থাকতেই বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, সোনার দাম কমায় গয়নার কারিগর এবং দোকানদারদের মুখেও হাসি ফুটেছে। কারণ, দাম বাড়লে ক্রেতারা দোকান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন, কিন্তু এখন বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে হালকা ওজনের গয়নার চাহিদা এখন তুঙ্গে। দোকানদারদের দাবি, দাম কমার ফলে যারা এতদিন কেবল জানালার কাঁচের ওপার থেকে গয়না দেখতেন, তারা এখন তা কেনার সাহস পাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, সোনার দামের এই পতন সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি এনেছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারের খামখেয়ালিপনার কারণে দাম যে কোনো সময় আবার বাড়তে পারে, তবে আপাতত এই নিম্নমুখী প্রবণতা ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই দামের ধারা বজায় থাকে কি না, নাকি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয় সোনার বাজার।



