
** ‘সই কাণ্ডে’ সিআইডির তলব এড়িয়ে দিল্লি থেকে সময় চাইলেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
2 মিনিটতৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সই কাণ্ডে’ সিআইডি’র তলব এড়িয়ে দিল্লি থেকে সময় চেয়েছেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যথাযথ সময়ের দাবি জানান।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও সিআইডি (CID)’র তলব এড়িয়ে দিল্লি থেকে সময় চেয়েছেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি জানালেন, “দিল্লি থেকে শূন্যিকালীন তাগাদে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়; আমাকে যথাযথ সময় দিন যাতে আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।” এই দাবির পেছনে ‘সই কাণ্ডে’ নামে পরিচিত একাধিক আর্থিক মামলার তদন্তের ইঙ্গিত রয়েছে, যেটি পূর্বে কয়েকবার তাকে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করেছে।
সিআইডি’র তলবের মূল বিষয় হল তৃণমূলের কয়েকটি প্রকল্পে তহবিলের অনিয়মিত ব্যবহার এবং অবৈধ লেনদেনের সন্দেহ। পূর্বে একই কাণ্ডে অভিষেককে সমন্বিতভাবে হেজমেটের মাধ্যমে আদালতে হাজির হতে দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেই সময়ও শর্তসাপেক্ষে উপস্থিত হতে পারেননি। এবার দিল্লি থেকে সময় চাওয়া মানে তিনি যুক্তরাজ্যের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আরেকটি দিক যোগ করছেন, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তুলছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রদের মতে, এই সব অভিযোগই বিরোধী দলের রাজনৈতিক চালচলনের অংশ এবং সিআইডি’র তলবকে এক ধরনের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদুপরি, তৃণমূলের মুখে একে একে “স্মার্ট পলিটিক্স” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে তাদের সমর্থকগণকে আশ্বস্ত করা যায় যে কোনো আইনি পদক্ষেপ তাদের রাজনৈতিক কর্মকে বাধা দেবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লি থেকে সময় চাওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা অভিষেককে শারীরিকভাবে হেজমেটের মুখে না এনে আইনি জটিলতা বাড়াবে। একই সঙ্গে, সিআইডি’র তদন্তের গতি বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব না ফেলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
অবশেষে, যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তলব এড়িয়ে সময় চেয়েছেন, তবু এই ঘটনা তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল ও আইনি চ্যালেঞ্জের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আদালতের রায় ও তদন্তের ফলাফলই শেষ কথা বলে দেবে, আর তৃণমূলের রাজনৈতিক মর্যাদা বজায় রাখবে কি না, সেটি জনগণের ধারণা নির্ধারণ করবে।



