
যোগী রাজ্যে বিজেপির ঘুঁটি বেকায়দা, ৫০ আসনে লড়ার ঘোষণা করণী সেনার
মিনিটযোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পঞ্চাশটি আসনে লড়ার ঘোষণা করল করণী সেনা। রাজপুত সমাজের এই প্রভাবশালী সংগঠনটির মাঠে নামা বিজেপির জন্য বড়সড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে শ্রী রাজপুত করণী সেনার বড় রাজনৈতিক ঘোষণা। বহুদিন ধরে বিজেপির অনুগামী হিসেবে পরিচিত এই সংগঠন এবার যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে পঞ্চাশটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, যা বিজেপির ঘরে বড়সড় উত্তেজনা তৈরি করেছে। দলটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের লক্ষ্য বিজেপির ঐতিহ্যবাহী রাজপুত ভোটব্যাংকে ফাটল ধরিয়ে রাজ্যের ক্ষমতার হিসেবে নতুন সমীকরণ তৈরি করা।
বিগত বছরগুলিতে করণী সেনা বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমর্থক ছিল বলেই পরিচিতি ছিল। কখনও পদ্মাবত ছবির প্রতিবাদে রাস্তায় নামা, কখনও আবার রাজপুত সমাজের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়ানো, এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্বের রাজনৈতিক ছাতার নীচে থেকেই কাজ করেছিল। কিন্তু এবার সেই পুরনো সমীকরণ ভেঙে দাঁড়িয়েছে, যা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে রাজপুত ভোটব্যাংক বিজেপির কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক। বিশেষ করে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও বুন্দেলখণ্ডের একাধিক আসনে রাজপুত সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে যাবে, তাতেই অনেক ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। করণী সেনার এই ঘোষণা মানেই বিজেপির জন্য এমন একটা সময়ে মাথাব্যথা, যখন রাজ্যে ইতিমধ্যেই কৃষক আন্দোলন, বেকার সমস্যা নিয়ে সরগরম গোটা প্রদেশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করণী সেনা মাঠে নামলে বিজেপির ভোট একতরফা ভাগ হবে, আর তার সুবিধা তুলতে পারে সমাজবাদী পার্টি বা বহুজন সমাজ পার্টির মতো বিরোধী শিবির। যদিও সাংগঠনিক শক্তি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিবেচনায় করণী সেনা একাই রাজ্যের হাল ফেরাতে পারবে না, তবু তাদের উপস্থিতি বিজেপির বিপদে ডালপালা মারতে যথেষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, উত্তরপ্রদেশের আগামী নির্বাচনী লড়াই এখন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বিজেপি যদি নিজের ঘাঁটির মাটি ধরে রাখতে না পারে, তবে যোগীর সিংহাসন দখলে অনেকখানি ঘাম ঝরতে হবে। করণী সেনার এই পঞ্চাশ আসনের লড়াই ঘোষণা কেবল একটি সংগঠনের রাজনৈতিক পথ বদল নয়, বরং এটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে এবার কেউ কারও ঘনিষ্ঠ নয়, সবাই নিজের স্বার্থেই মাঠে নামছে।



