
১ বছরে ৩৫ কেজি কমে গেল ওজন—ফন্ডা এক্সট্রা ডায়েটের ‘ম্যাজিক’ জানালেন কলকাতার তরুণী
2 মিনিটরিয়া দাশগুপ্ত ১ বছরে ৩৫ কেজি ওজন কমিয়ে ২৩ কেজি পেলেন, তার গোপন রহস্য—ফান্ডা ডায়েট, নিয়মিত জিম ও সঠিক মানসিক যত্ন। তার সফলতা শহরের স্বাস্থ্যচেতনা জাগ্রত করতে ভূমিকা রাখবে।
কলকাতার ২৪‑বছরের স্নাতক শিক্ষার্থী রিয়া দাশগুপ্ত, যাঁর ওজন ১ বছরের মধ্যে ৩৫ কেজি হ্রাস পেয়ে ৫৮ কেজি থেকে মাত্র ২৩ কেজি হয়ে গেল, আজ তার মুখে হাসি আর গর্বের ছাপ। রিয়া জানালেন, এই রূপান্তর তার জীবনে ‘ফান্ডা’ নামের এক নতুন ডায়েট প্রোগ্রামের কারণে ঘটেছে, যা তিনি গত বছর শুরুর মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল সেটা শুধু একটা ট্রেন্ড, তবে ডায়েটের সঠিক গঠন, ক্যালোরি ট্র্যাকিং ও সপ্তাহে তিন দিন জিমে ট্রেনিং করার মাধ্যমে সত্যিই জাদু ঘটল।”
ফান্ডা প্রোগ্রামটি মূলত পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস ট্রেইনারের সমন্বয়ে তৈরি, যার মূল লক্ষ্য হল ক্যালোরি ঘাটতি বজায় রেখে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করা। রিয়া উল্লেখ করেন, তিনি প্রতিদিন ১২০০ ক্যালোরি সীমা মেনে চলেন, তবে তার মেনুতে শাকসবজি, দই, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকে, যা তাকে পেশীর দেহ গঠনেও সাহায্য করেছে। তার মতে, “প্রতিদিনের খাবারের হিসাব রাখতে একটি অ্যাপ ব্যবহার করা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক ছিল, কারণ তা আমার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে রোকে।”
ডায়েটের পাশাপাশি রিয়া সপ্তাহে পাঁচ দিন জিমে ব্যায়াম করেন, যেখানে তিনি কার্ডিও, স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও যোগব্যায়াম একত্রে করেন। কলকাতার জনপ্রিয় ‘ফিটনেস হাব’ নামের জিমে তার প্রশিক্ষক জানান, রিয়া দ্রুতই মেটাবলিজমে উন্নতি দেখেছেন এবং তার শারীরিক শক্তি বাড়েছে। তাছাড়া, রিয়া মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও গুরুত্ব দেন; তিনি প্রতিদিন ১৫ মিনিট মেডিটেশন এবং রাতের ঘুম কমপক্ষে ৭ ঘন্টা নিয়মিত করেন, যা ওজন কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় প্রমাণিত।
বিশেষজ্ঞরা রিয়ার গল্পকে “সুস্থ ওজন কমানোর আদর্শ উদাহরণ” হিসেবে তুলে ধরেছেন। পুষ্টিবিদ ডঃ নন্দিতা রায় বলেন, “যেকোনো ডায়েটের মূলমন্ত্র হল স্থায়িত্ব, সঠিক পুষ্টি ও শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সমন্বয়। রিয়ার মতো তরুণীরা যখন এই নীতিগুলো মেনে চলে, তখন ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে।” এছাড়া, রিয়া তার অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে বহু যুবতীর মনোভাব পরিবর্তন করতে সহায়তা করছেন, যা শহরের ফিটনেস সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, রিয়ার ১ বছরের মধ্যে ৩৫ কেজি ওজন কমানোর গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শহরের স্বাস্থ্যচেতনা জাগ্রত করার একটি মাইলফলক। ফান্ডা ডায়েটের সঠিক প্রয়োগ, নিয়মিত জিমের শৃঙ্খলা ও মানসিক সুস্থতার সমন্বয়ই রিয়াকে এই রূপান্তরে সহায়তা করেছে। তার অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়, ধারাবাহিকতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে যে কোনো ওজন কমানোর লক্ষ্য পূরণ সম্ভব, এবং এটি কলকাতার যুবসমাজের জন্য এক মডেল হিসেবে কাজ করবে।



