
বর্ষায় বাড়ছে কোভিড‑১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও H1N1‑এর সংক্রমণ—ডাক্তারদের সতর্কবার্তা
বর্ষার সাথে কোভিড‑১৯, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও H1N1 একসঙ্গে বাড়ছে। ডাক্তাররা দিচ্ছেন সতর্কবার্তা, টিকাদান ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
বর্ষার প্রথম সপ্তাহেই কলকাতার হাসপাতালগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের রোগের সংখ্যা উঁচুতে উঠেছে। সাধারণত এই সময়ে সর্দি‑কাশি, জ্বরের মতো রোগের প্রবাহ বাড়ে, তবে এই বছর তিনটি ভিন্ন ভাইরাস—ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, কোভিড‑১৯ এবং H1N1—একসাথে বাড়তে দেখায়। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের আইসিইউ ও কোয়াড ক্যুয়েন্টিন বিভাগে চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে বয়স্ক ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষগুলোতে গুরুতর লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
কলকাতা মেডিকেল কলেজের শ্বাসযন্ত্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ অমিতাভ দাস জানান, “ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ও H1N1 দুটোই শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণকারী ভাইরাস, আর কোভিড‑১৯ের সঙ্গে সমন্বয় ঘটলে রোগের তীব্রতা বাড়ে। রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়, তাই দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।”
ডঃ দাসের সঙ্গে কথা বলা ডঃ রিনি চৌধুরী, ইমিউনোলজি বিভাগে কাজ করেন, তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বর্ষার বৃষ্টির জলজনিত আর্দ্রতা বাড়ায় ভাইরাসের বায়ুতে টিকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই গৃহে দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ রাখা, মাস্ক ব্যবহার ও হাতের গন্ধ পরিষ্কার রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।”
শহরের স্বাস্থ্য বিভাগও জরুরি সতর্কতা জারি করে, যেখানে সারা শহরে টিকাদান প্রচার বাড়ানো হবে এবং টেলিকমিউনিটি সেন্টারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও H1N1 টিকাদান সুবিধা সহজলভ্য করা হবে। তাছাড়া, কোভিড‑১৯ টিকাদান সম্পন্ন না করা ব্যক্তিদের জন্য পুনরায় টিকাদানের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, এই বর্ষা মৌসুমে একাধিক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সমন্বয় রোগীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। রোগীর সতর্কতা, সঠিক টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। তাই নাগরিকদের উচিত নিজে ও পারিবারিক সদস্যদের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা।




