
পুতিনের কাছে ব্রহ্মোসের বড় প্রস্তাব—রুশ বাহিনীরও সুপারসনিক মিসাইলের হাতের কাছে
ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সহ‑পরিচালক আলেকজান্ডার মাকসিচেভ রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সরবরাহের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যালান্সে নতুন মোড় নিয়ে আসবে।
ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সহ‑পরিচালক আলেকজান্ডার মাকসিচেভের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সরবরাহের প্রস্তুতি প্রকাশ পায়। তিনি বলছেন, যদি রাশিয়া অনুরোধ করে, তবে এই রুশ‑ভারতীয় যৌথ উদ্যোগটি ব্রহ্মোস মিসাইলের অর্ডার পূরণে তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করবে। এই ঘোষণাটি ভারতের নিরাপত্তা নীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রহ্মোস প্রকল্পের মূল ভিত্তি হল ভারত‑রাশিয়া সহযোগিতা, যা ২০০০‑এর দশকে শুরু হয়। বর্তমানে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখা—ভূমি, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী—ব্রহ্মোস মিসাইল ব্যবহার করে। মিসাইলটি ২.৯৫ মাইল প্রতি সেকেন্ড (প্রায় ৯০০ কিমি/ঘণ্টা) গতি অর্জন করে, ফলে তা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত ক্রুজ মিসাইল হিসেবে স্বীকৃত। রাশিয়া যদি এই মিসাইলের সরবরাহ চায়, তবে এটি তার সামরিক ক্ষমতা ও স্ট্রাটেজিক ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
রাশিয়া-ভারতীয় যৌথ উদ্যোগের ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্কে রুশ-ভারতীয় সামরিক সহযোগিতা ইতিমধ্যে সতর্কতামূলক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে, আর ব্রহ্মোসের রুশ বাহিনীর কাছে সরবরাহের সম্ভাবনা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মিসাইল বাজারে একটি নতুন প্রতিযোগিতা আনতে পারে, যেখানে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠন হবে।
ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের এই প্রস্তাবের পেছনে অর্থনৈতিক দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না। রুশ সেনাবাহিনীর চাহিদা পূরণে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালে উভয় দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন তহবিলের প্রবাহ ঘটবে। তাছাড়া, এটি ভারতের মিসাইল শিল্পকে বিশ্ববাজারে আরও দৃঢ় অবস্থানে রাখবে, যেখানে প্রযুক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সমন্বয় ঘটবে।
সর্বশেষে বলা যায়, রুশ বাহিনীর ব্রহ্মোস মিসাইল পাওয়ার সম্ভাবনা শুধু একটি সামরিক লেনদেন নয়, বরং ভৌগোলিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যদি এই চুক্তি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি কেবল রাশিয়ার আকাশে নতুন শক্তি যোগাবে না, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যালান্সে নতুন প্রশ্ন ও আলোচনার সূচনা করবে। সময়ের সাথে সাথে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন দেখতে হবে, তবে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা উচিত।


