ভূমিকম্প‑বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে ভারত, সেনা চিকিৎসকরা দোয়ালেন “দেবদূত”
international9 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ভূমিকম্প‑বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে ভারত, সেনা চিকিৎসকরা দোয়ালেন “দেবদূত”

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ভেনেজুয়েলায় দু'টি তীব্র ভূমিকম্পের পর ভারতীয় সেনা চিকিৎসকরা দ্রুত ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে, জরুরি শল্যচিকিৎসা ও সাময়িক হাসপাতাল স্থাপন করে বিপর্যস্ত জনগণের জীবন রক্ষা করে।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় দুইটি তীব্র ভূমিকম্পের ধাক্কা এসে, শহরের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসাবশেষে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে। সিসমিক রিকর্ড অনুসারে, প্রথম কাঁপুনি ৭.২ রিক্টার এবং পরেরটি ৬.৯ রিক্টার মাত্রায় মাপা হয়েছে; ফলে হাজারো পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ এবং জীবনের নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় জনগণ শোকের ছায়ায় ডুবে আছে, যদিও তীব্র বৃষ্টির ঝড়ও সহায়ক না হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।

এই মানবিক সংকটে ভারতীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ভারতের বাহ্যিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া দলে তৎক্ষণাৎ একটি মেডিকেল টাস্ক ফোর্স পাঠায়, যা “Operation Amistad” নামে পরিচিত। টাস্ক ফোর্সে সুসজ্জিত সেনা চিকিৎসক, শল্যচিকিৎসক ও প্যারামেডিক সহ ৪০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে; তারা ভেনেজুয়েলার সীমান্তের নিকটে অবস্থিত হেলিকপ্টার দিয়ে সরাসরি দুর্যোগভুক্ত এলাকায় পৌঁছেছে।

সেনা চিকিৎসকরা প্রথম দিনেই অঙ্গহীন শিকারিদের জরুরি শল্যচিকিৎসা প্রদান করে, তীব্র রক্তক্ষরণ থামায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের স্নায়ু সংক্রমণ রোধ করে। পাশাপাশি, তারা সাময়িক হাসপাতাল স্থাপন করে, যেখানে রোগী ও আহতদের মৌলিক সেবা, রক্তদান এবং অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে, ফলে শীঘ্রই অল্প সংখ্যক রোগীরই জীবন রক্ষা করা যায়।

ভারতীয় সেনা চিকিৎসকরা এই কাজের মাধ্যমে শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, মানবিক সহানুভূতির প্রতীক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছে। তাদের দ্রুত কার্যক্রম ও পেশাদারিত্ব ভেনেজুয়েলার জনগণের মনকে স্বস্তি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা অর্জন করেছে। এই ঘটনার পর, ভারত ও ভেনেজুয়েলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জরুরি সহায়তার কাঠামোকে আরও মজবুত করবে।

সারসংক্ষেপে, ভূমিকম্প‑বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে ভারতীয় সেনা চিকিৎসকরা যেন দেবদূত হয়ে অবতরণ করে, অশ্রুতে ভেজা মানুষের হৃদয়ে আশা ও নিরাপত্তার আলো জ্বালিয়েছেন। মানবিক সহায়তার এই মডেলটি অন্য দেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX