বাংলাদেশে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখান হল জম্মু-কাশ্মীর; হাইকমিশনের সেক্রেটারির তীব্র প্রতিবাদ
international4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

বাংলাদেশে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখান হল জম্মু-কাশ্মীর; হাইকমিশনের সেক্রেটারির তীব্র প্রতিবাদ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ঢাকা বিদেশ নীতি সেমিনারে জম্মু-কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো মানচিত্রে ভারতের হাইকমিশনের সেক্রেটারি পূজা ঝা তীব্র আপত্তি জানিয়ে কূটনৈতিক অশান্তি দূর করার আহ্বান জানান।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিদেশ নীতি সেমিনারে ভারতের হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি পূজা ঝা জম্মু-কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে চিহ্নিত মানচিত্র দেখার পর তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, এধরনের মানচিত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরিপন্থী এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা। তিনি বলেন, “যদি কোনো দেশ অন্য দেশের সীমা পরিবর্তন করে মানচিত্র প্রকাশ করে, তবে তা স্বল্পমেয়াদে তন্দ্রা সৃষ্টি করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে শত্রুতা বাড়ায়।”

সেমিনারের আয়োজন করা বাংলাদেশ সরকারের বহুমুখী বিদেশ নীতি সংস্থা এই বিষয়টি জানার পর দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মানচিত্রটি তুলে দিয়ে স্পষ্ট করে যে, মানচিত্রটি কোনো সরকারি নথি নয়, বরং এক ব্যক্তিগত গবেষণাকর্মের অংশ। সংস্থার মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দেশীয় সীমারেখা স্বীকৃতির পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

এই ঘটনার পর ভারতের দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি কূটনৈতিক চ্যানেল থেকে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। হাইকমিশনের প্রেসিডেন্ট বলছেন, “বহু বছর ধরে আমরা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অখণ্ড অংশ হিসেবে দেখিয়েছি; এমন ভুল তথ্যের প্রচার আমাদের স্বার্থের ক্ষতি করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এধরনের ভুল না করার জন্য দু'দেশের কূটনৈতিক সংলাপ বাড়িয়ে নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলেন, এই ঘটনা যদিও সরাসরি কোনো সীমান্ত ঘাটতি সৃষ্টি করে না, তবু উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা গঠন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এমন ভুল তথ্যের বিস্তার প্রতিরোধে উভয় পক্ষের সতর্কতা প্রয়োজন। তাই, ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে স্বচ্ছতা বজায় রাখা উভয় দেশের স্বার্থে হবে।

উপসংহারে বলা যায়, মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা একদিকে কূটনৈতিক অশান্তি সৃষ্টি করলেও, সঠিক তথ্য ও দ্রুত সংশোধনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। উভয় দেশই পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়াই মূল লক্ষ্য।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX