ইরান‑সংঘাতের ছায়ায় ইজরায়েল, ভারতে ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা
international12 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ইরান‑সংঘাতের ছায়ায় ইজরায়েল, ভারতে ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ইজরায়েল ‘আয়রন ডোম’ ব্যবহৃত ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কাঠামোর মধ্যে ভারতে শুরু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ রক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা বাড়াবে, তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করবে।

ইরান‑সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েল তার রণকৌশলিক অগ্রগতি বাড়াতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইজরায়েল সরকার ও তার প্রতিরক্ষা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, ‘আয়রন ডোম’ বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ভারতে করা হবে। এই প্রকল্প ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু হবে এবং স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাপ্লাই চেইনকে স্বনির্ভর করা হবে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ভারতের অগ্রণী রক্ষা শিল্পে সংযোজন করা। ইজরায়েল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উচ্চ-উচ্চতা থেকে আসা রকেট এবং দেরী-পরিসীমার মিসাইল উৎক্ষেপণকে নিরুৎসাহিত করতে সক্ষম। স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে, ইজরায়েল ২০২৫ সালের মধ্যে প্রথম ব্যাচ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

ভারত‑ইজরায়েল সামরিক সহযোগিতার এই পদক্ষেপটি কেবল রক্ষা শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং দেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ মডেলটি গ্রহণ করে বিদেশি প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা খাতের স্বনির্ভরতা বাড়াবে। তবে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সস্তা-দ্রুত সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরতা কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগের কারণও বটে।

অন্যদিকে, ইরান‑সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন প্রশ্ন তুলছে। ইজরায়েল যদি ভারতে ‘তামির’ উৎপাদন শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের গতি-প্রকৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবু, ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের এই নতুন রূপকে দেশের কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

সারসংক্ষেপে, ইজরায়েল ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ভারতে তৈরি করার এই পদক্ষেপটি রক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে সাথে পরিষ্কার হবে। দেশীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত পর্যবেক্ষণই এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX