দিল্লি অবস্থানে রাফাল যুদ্ধবিমানের ১১৪টি চুক্তি হাতছাড়া হবে? ফ্রান্সের সোরস কোড‑র হাওয়া
international1 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

দিল্লি অবস্থানে রাফাল যুদ্ধবিমানের ১১৪টি চুক্তি হাতছাড়া হবে? ফ্রান্সের সোরস কোড‑র হাওয়া

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাফাল যুদ্ধবিমানের ১১৪টি চুক্তি ফ্রান্সের সোরস কোড‑এর কঠোর শর্তে হাতছাড়া হতে পারে। দিল্লিতে আলোচনার থেমে যাওয়ায় ভারতকে বিকল্প গৃহীতের পথে অগ্রসর হওয়ার দরকার।

দিল্লি‑তে রাফাল যুদ্ধবিমানের চুক্তি আলোচনা হঠাৎই থেমে গেল, আর ফ্রান্সের সরকার এখনো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে সোরস কোড‑এর পূর্ণ স্বীকৃতি চাইছে। রাফাল কর্মসূচিতে বিদেশী দেশগুলোকে প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে না চাওয়ার ফলে ১১৪টি বিমানের আদেশই ঝুলে আছে। এই পরিস্থিতি ভারতের রক্ষাব্যবস্থা ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ রাফালকে বদলে অন্য কোনো বিকল্পের সন্ধান এখনো পরিষ্কার নয়।

ফ্রান্সের ডিফেন্স মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে যে, রাফাল ফ্লাইটের সোরস কোডের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। তাই অংশীদার দেশগুলোকে শুধুমাত্র বিমানের ক্রয় নয়, বরং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, মেরামত ও প্রশিক্ষণ সহায়তায়ও সীমাবদ্ধতা দিতে বলা হচ্ছে। এই শর্তগুলোকে ভারতীয় সরকার সমর্থন করতে অস্বীকার করলে চুক্তি রদ হয়ে যাবে বলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইতিপূর্বে ভারত রাফাল ৩৪টি বিমানের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তবে পরে ৭৫টি অতিরিক্ত বিমানের জন্য অতিরিক্ত চুক্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়। এখন ফ্রান্সের সোরস কোড‑এর কড়া শর্তের কারণে এই অতিরিক্ত ৭৫টি বিমানের চূড়ান্ত অনুমোদন অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই বাধা দূর না করা হয়, তবে ভারত সুত্রধারী অন্য কোনো মিত্রের সঙ্গে বিকল্প গৃহীত করতে পারে, যেমন ইউরোপীয় বা রাশিয়ান সরবরাহকারী।

বিমান শিল্পের বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, রাফাল প্রকল্পের দেরি শুধু রক্ষা ক্ষমতায়ই নয়, বরং দেশের এয়ারফোর্সের প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামোতেও প্রভাব ফেলবে। রাফালকে যদি ত্যাগ করা হয়, তবে নতুন মডেল কেনা মানে নতুন সোরস কোড, নতুন অবকাঠামো ও নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে, যা আর্থিক ও সময়গত দৃষ্টিকোণ থেকে বড় চাপ তৈরি করবে।

উপসংহারে, রাফাল যুদ্ধবিমানের চুক্তি ফ্রান্সের কঠোর সোরস কোড‑এর কারণে ঝুঁকির মুখে। ভারত যদি এই শর্তগুলো মেনে না চলে, তবে ১১৪টি রাফাল বিমানের অর্ডার রদ হয়ে যাবে, আর বিকল্প খোঁজার জন্য অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হবে। এই সংকটের সমাধানই হবে ভবিষ্যৎ রক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষা ও সামরিক আধুনিকায়নের মূল চাবিকাঠি।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX