
বিমানই হোক বা ড্রোন…নিমিষেই ধ্বংস! স্যাম মিসাইল যা ট্রাম্পের ‘অজেয়’ বিমানের জন্যও হুমকি
সারফেস‑টু‑এয়ার মিসাইলের দ্রুত গতি ও স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ক্ষমতা আজকের আকাশ রক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিমান ও ড্রোন উভয়ই এই হুমকির মুখে, তাই নিরাপত্তা কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
সারফেস‑টু‑এয়ার (SAM) মিসাইলের গতি ও চপলতা আজকের সামরিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভূমি থেকে নিক্ষেপ করা এই ক্ষেপণাস্ত্রের দিক‑নির্দেশনা ব্যবস্থা, রাডার‑সাপোর্টেড এবং স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত, ফলে কোনো বিমান বা ড্রোনকে মাত্র একটিই মুহূর্তে ধ্বংস করতে পারে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে ‘অজেয়’ বলে চিহ্নিত করা বোমা-ধ্বংসকারী বিমানেরও এই মিসাইলের হুমকি ছিল, যা আকাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদ্ধতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছিল।
পূর্বে সামরিক মহলগুলো বিমান রক্ষা করতে জেট ফাইটার ও পৃষ্ঠ থেকে নিক্ষেপযোগ্য রকেট ব্যবহার করত। কিন্তু আধুনিক SAM সিস্টেমের উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং ও বহুমুখী লক্ষ্যবস্তু অনুসন্ধান ক্ষমতা, ঐতিহ্যগত পদ্ধতিগুলোকে দুর্বল করে তুলেছে। ফলে, একাধিক দেশই এখন বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে এই মিসাইলের বিরুদ্ধে রক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, SAM মিসাইলের বিস্তার কেবল সামরিক নিরাপত্তা নয়, বেসামরিক বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহারেও প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্যিক ড্রোনের উঁচু উচ্চতা ও দ্রুত গতি, যদি যথাযথ নজরদারি না থাকে, তবে এই মিসাইলের গলিতে ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ড্রোনের সীমানা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করতে হবে।
অবশেষে, SAM মিসাইলের উন্মুক্ত হুমকি আকাশের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সরকার, সামরিক ও বেসামরিক সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত কৌশল গঠন করে, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে আকাশে হঠাৎ কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জীবন ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই ধরনের প্রস্তুতি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।




