দিল্লিতে বিশ্বনেতাদের মেলা, ব্রিকস সম্মেলনে নজর গোটা বিশ্বের; মোদীর সঙ্গে কার কার বৈঠক?
international14 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

দিল্লিতে বিশ্বনেতাদের মেলা, ব্রিকস সম্মেলনে নজর গোটা বিশ্বের; মোদীর সঙ্গে কার কার বৈঠক?

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তোকায়েভ ও রামাফোসাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে এখন কার্যত গোটা বিশ্বের নজর নয়াদিল্লিতে। একের পর এক শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে ভারতের রাজধানী যেন পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে। বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে ভারত যে এখন এক অপরিহার্য শক্তি, এই সম্মেলন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। তোকায়েভ থেকে রামাফোসা—বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন দিল্লিতে, আর তাঁদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতুহল।

এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যবস্থায় গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকের তালিকায় যাঁদের নাম সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই আলোচনাগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ব্রিকস সম্মেলন ভারতের জন্য এক বড় সুযোগ। একদিকে যেমন পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করা— এই কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে মোদী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলোর ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন সর্বোচ্চ স্তরে। প্রতিটি হোটেলের বাইরে থেকে শুরু করে সম্মেলন কেন্দ্রের চারপাশ কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে। ভিভিআইপি প্রটোকল মেনে চলছে সবকিছু। শুধু কূটনৈতিক আলোচনা নয়, এই মেলা ভারতের পর্যটন এবং সংস্কৃতির প্রচারের ক্ষেত্রেও এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সামনে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং দ্রুত উন্নতির খতিয়ান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সামগ্রিকভাবে, এই সম্মেলন কেবল সদস্য দেশগুলোর মিলনমেলা নয়, বরং এটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা তৈরির একটি মঞ্চ। তোকায়েভ বা রামাফোসার মতো নেতাদের সঙ্গে মোদীর আলোচনা কেবল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করবে না, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করবে। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকগুলোর শেষে শেষ পর্যন্ত কোন কোন চুক্তিতে সই হয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান কতটা মজবুত হয়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX