
রণকৌশলে বড় বদল! হাইপারসনিক ব্রহ্মোস তৈরি করছে ভারত-রাশিয়া, যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে যাবে এবার
ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে তৈরি করছে ছোট ও হালকা হাইপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ দ্রুতগতির এই অস্ত্রটি গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশলে বড় পরিবর্তন আনবে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে করবে আরও শক্তিশালী।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত ও রাশিয়া। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের যাত্রার ২৫তম বর্ষপূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে সামনে এল এক চমকপ্রদ খবর। দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করছে নতুন প্রজন্মের ‘হাইপারসনিক ব্রহ্মোস’। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হবে আগের তুলনায় অনেক ছোট এবং হালকা, যা আধুনিক যুদ্ধের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। বিশেষ করে গেরিলা যুদ্ধের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে এই অস্ত্রটি হয়ে উঠবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক বড় হাতিয়ার।
সাধারণত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হয়, যার ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে একে চিহ্নিত করা বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। নতুন এই ব্রহ্মোস সংস্করণটি কেবল দ্রুত নয়, বরং এর ছোট আকারের কারণে একে খুব সহজেই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। ফলে পাহাড়ের খাঁজ বা ঘন জঙ্গলের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও এটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হবে, যা শত্রুপক্ষের জন্য এক বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে। এখন বড় বড় ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ভারত ও রাশিয়ার এই যৌথ উদ্যোগটি কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত আধিপত্য আরও মজবুত করবে। বিশেষ করে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা আকস্মিক আক্রমণ রুখতে এই হাইপারসনিক অস্ত্রটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা। ছোট ও হালকা হওয়ার ফলে একে নৌসেনার ছোট যুদ্ধজাহাজ বা বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান থেকে অনায়াসেই ছোড়া যাবে। এর ফলে প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতিতেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে। দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার পর ব্রহ্মোসের এই নতুন রূপটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-রাশিয়ার এই যৌথ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, আগামী দিনে প্রযুক্তির লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই ভারত। হাইপারসনিক ব্রহ্মোসের অন্তর্ভুক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ভারতের আকাশ, জল ও স্থল— তিন বিভাগকেই করবে আরও সুরক্ষিত এবং অপরাজেয়।




