৩৬ বছর পর কাশ্মীরি পণ্ডিতের ভিটে ফিরে এলেন বৃদ্ধা, অভিশাপ কাটিয়ে
national5 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

৩৬ বছর পর কাশ্মীরি পণ্ডিতের ভিটে ফিরে এলেন বৃদ্ধা, অভিশাপ কাটিয়ে

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

কুলগামের পুরনো বাড়িতে ৩৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি কাশ্মীরি পণ্ডিতের বৃদ্ধা মাটি ছুঁয়ে নিলেন। তার ফিরে আসা স্থানীয় সমাজে শান্তি ও সমঝোতার নতুন আশা জাগিয়েছে।

কুলগাম জেলার এক পুরনো বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই বৃদ্ধা কাশ্মীরি পণ্ডিতের চোখে অশ্রু জমে গেল; ৩৬ বছর পর তিনি শেষমেশ নিজের জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন। ১৯৯০‑এর শেষের দিকে যখন কাশ্মীরি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তখনই তিনি এবং তার পরিবারকে জোরপূর্বক গৃহত্যাগ করতে হয় এবং বহু বছর দূর ডিল্লি শহরে বসবাসের ঝামেলা ভোগ করে।

বছরের পর বছর, দূর থেকে তিনি একদিনের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মা-বাবার ঘরে গিয়ে মাটি ছুঁতে পারেন, গাছের ছায়ায় বসে পুরনো গন্ধ শ্বাসে নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত, স্বাস্থ্যের অবনতি ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ফিরে যাবেন। এখন তিনি বাড়ির পুরনো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠে, সেই মাটিতে পা রেখে নীরবে প্রার্থনা করলেন, যেন অতীতের অভিশাপ দূর হয়।

স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে মুসলিম কৃষক, তার ফিরে আসা দেখে বিস্ময় এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বললেন, কাশ্মীরি সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে সকলের মিলে কাজ করতে হবে; না হলে বহু পরিবার এখনও বাড়ি ফিরতে পারে না।

বৃদ্ধা পণ্ডিতের এই পদক্ষেপ কেবল ব্যক্তিগত স্বপ্নই নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তিনি বললেন, পুনরায় এখানে বসে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করা মানে আত্মার শুদ্ধি ও শান্তি পেয়ে যাওয়া। তার ফিরে আসা আশা জাগায় যে, ভবিষ্যতে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা আবার তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূখণ্ডে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবে।

উপসংহারে বলা যায়, ৩৬ বছর পর যখন তিনি পুনরায় মাটিতে পা রাখলেন, তখনই তার হৃদয়ে এক নতুন আশার আলো জ্বলে উঠল; এই আলোই হয়তো কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের ভিত্তি হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX