
স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথম আলো দেখল খয়রাগড়ের সালহেওয়ারা
স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও অন্ধকারে বাস করা খয়রাগড়ের সালহেওয়ারা গ্রামে আজ প্রথমবারের মতো আলো জ্বলে। গ্রামবাসীর মুখে আনন্দ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন আশা জাগে।
রায়পুরের ছত্তিশগড় জেলার খয়রাগড়‑ছুইখাদান‑গান্দাই এলাকার সালহেওয়ারা গ্রাম, স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও বিদ্যুতের এক বাল্বই জ্বালানো হয়নি, এমন এক অন্ধকারের দেশে আজ প্রথমবারের মতো আলো জ্বলে উঠেছে। গৃহহীন শিখা আর জ্বালানির অভাবে ঘরে ঘরে অন্ধকারের ছায়া ছড়িয়ে ছিল; তবে গত সপ্তাহে গৃহমালিকের ঘরে ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাল্ব জ্বলে, গ্রামবাসীর মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
সালহেওয়ারা গ্রামটি গোয়ালগুন্ডি, গলবাঁধা ও চৌধুরী রোডের সংযোগে অবস্থিত, যেখানে ৩৫০ গৃহকে রশ্মি পৌঁছাতে ১২০ কিলোওয়াটের হাইড্রোডোড লাইন স্থাপিত হয়েছে। সরকারী 'দীন্দ্যাল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি পরিকল্পনা'র অধীনে চলমান কাজের দিকেই এই আলো পৌঁছেছে; প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়, আর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও গ্রাম পরিষদের সহায়তায় কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।
আলো জ্বালানোর অনুষ্ঠানটি বিকাল ৪টায় গ্রামচৌরাস্তার মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও রাজ্য বিদ্যুৎ বিভাগে উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন; তারা বিদ্যুৎ সংযোগের গুরুত্ব ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে villagers-কে সচেতন করেন। গ্রামের ছোট ছোট শিশুরা এখন সন্ধ্যায় বইয়ের আলোতে পড়তে পারবে, আর রোগী ও গৃহিণীরা রাত্রে নিরাপদে কাজ করতে পারবে, এ কথা শোনার পর সকলের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোর সংযোজনের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি, স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান ও স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উচ্ছ্বাস দেখা যাবে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষতি রোধের জন্য যথাযথ তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন। এই ধাপটি অতিক্রম করে গ্রামগুলোকে সমগ্র জয়ন্তী পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, যদি সরকারী এবং স্থানীয় সংস্থার সমন্বয় অব্যাহত থাকে।
সারসংক্ষেপে, স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো সালহেওয়ারা গ্রামকে আলোতে স্নান করানো একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই অর্জন কেবল বিদ্যুৎ সংযোগেই নয়, গ্রামবাসীর ভবিষ্যৎ গড়তে একটি নতুন দিশা দেখায়। সময়ের সাথে সাথে এই আলোর ধারাকে শক্তিশালী ও স্থায়ী করে তোলাই হবে আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।




