তেজস এমকে‑১এ‑এর নতুন ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় সিদ্ধান্ত
national8 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

তেজস এমকে‑১এ‑এর নতুন ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

তেজস এমকে‑১এ-র ছয়টি জিই এফ৪০৪ ইঞ্জিনের একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত অর্ডার স্থগিত করে, ইঞ্জিনের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পরীক্ষা চালু করেছে।

বিমানবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমান তেজস এমকে‑১এর ছয়টি ‘জিই অ্যারোস্পেস এফ৪০৪’ ইঞ্জিনের মধ্যে একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্সের সঙ্গে যুক্ত এই ইঞ্জিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম জেট ইঞ্জিনগুলোর একটি, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে সহায়তা করবে। ত্রুটিটি ইঞ্জিনের কমপ্রেশন সিস্টেমে সনাক্ত হয়েছে, যা উড়ানকালে পারফরম্যান্সে ক্ষতি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ত্রুটির কারণ হল রোটর ব্লেডের একাধিক পয়েন্টে সূক্ষ্ম ক্র্যাক দেখা গেছে। এই ক্র্যাকগুলো সময়মতো সনাক্ত না হলে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, ফলে বিমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই বিমানবাহিনী তৎক্ষণাৎ ইঞ্জিনটি ডিকমিশন করে, রক্ষণাবেক্ষণ শিবিরে পাঠিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

এই ঘটনার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তেজসের পরবর্তী ক্রয় পরিকল্পনা ও ইঞ্জিন সরবরাহের শর্তাবলী পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রীর মুখে জানানো হয়েছে যে, ইঞ্জিনের গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন ইঞ্জিনের অতিরিক্ত অর্ডার স্থগিত রাখা হবে। পাশাপাশি, জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার মূল কারণ বের করে দ্রুত সমাধান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে একইধরনের ত্রুটি দেখা না দেয়।

বিমানবাহিনীর মুখপাত্র উচ্চারণ করেছেন যে, তেজস এমকে‑১এ প্রকল্পটি দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণ যুদ্ধবিমান উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি যদিও একটি অস্থায়ী ধাক্কা, তবে এটি প্রযুক্তিগত স্বশাসন অর্জনের পথে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। সরকার এবং শিল্প সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করে, গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপসংহারে বলা যায়, তেজসের নতুন ইঞ্জিনে দেখা ত্রুটি দেশীয় বিমান প্রকৌশলকে থামাবে না; বরং এটি উন্নয়নের গতি বাড়াবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্রিয় সমন্বয়ই এই সমস্যাকে সমাধান করার মূল চাবিকাঠি হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের আকাশে স্বদেশি যুদ্ধবিমান নিশ্চিন্তে উড়ে চলতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX