
শেষরক্ষা হল না! কুলগাম জঙ্গি হামলায় আহত শ্রমিক ভূপেন্দরের মৃত্যু
দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন অভিবাসী শ্রমিক ভূপেন্দর। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হল, যা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল।
কাশ্মীরের উপত্যকায় ফের রক্তপাত। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারালেন এক অভিবাসী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার রাতে ইটভাটায় কাজ করার সময় আচমকাই হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ভূপেন্দর নামে এক শ্রমিক। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষরক্ষা হল না, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কুলগামের একটি ইটভাটায়। সেখানে কর্মরত দুই অভিবাসী শ্রমিকের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত আহত ভূপেন্দরকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসার চেষ্টা চলে। তবে শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা বাড়ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও জঙ্গিরা মাঝেমধ্যেই এই ধরনের কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই শ্রমিকের পরিবারে। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় উচ্চসতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে যাতে হামলাকারী জঙ্গিদের দ্রুত চিহ্নিত করে ধরে নেওয়া যায়। পাশাপাশি, উপত্যকায় কর্মরত অন্যান্য অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন। কারণ, এই ধরনের ঘটনা শ্রমিকদের মনে এক গভীর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়নের পথে হাঁটতে থাকা কাশ্মীরে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন যখন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন শান্তি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভূপেন্দরের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি উপত্যকার অস্থির পরিস্থিতিরই এক করুণ প্রতিফলন।




