
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘শত্রুঞ্জয়’ অ্যান্টি‑ড্রোন ব্যবস্থা—সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে গড়ে উঠেছে নতুন প্রতিরক্ষা শক্তি
ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘শত্রুঞ্জয়’ নামের দেশীয় অ্যান্টি‑ড্রোন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা শত্রু‑ড্রোনকে সনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়িয়ে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করেছে।
আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি বিবেচনা করে, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্প্রতি ‘শত্রুঞ্জয়’ (Shatrunjay) নামে একটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্টি‑ড্রোন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই সিস্টেমটি দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৌশলগত শিল্প সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে উঠে, যার প্রধান কাজ হলো শত্রু‑দিকের ড্রোনের সনাক্তকরণ, ট্র্যাকিং এবং ধ্বংস করা। সেনাবাহিনীর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণায় জানানো হয়েছে, শত্রুঞ্জয় ব্যবস্থা বিদ্যমান রাডার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হুমকি শনাক্ত করে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
শত্রুঞ্জয় সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হল উচ্চ রেজোলিউশনের ইলেক্ট্রো‑অপটিক সেন্সর, জ্যামারোধী কমিউনিকেশন মডিউল এবং ইলেকট্রিকাল‑এলেকট্রনিক (ই‑ই) যুদ্ধের জন্য উন্নত সফটওয়্যার। এই প্রযুক্তি দেশীয় গবেষকরা তিন বছর ধরে উন্নয়ন করে, বিদেশি সরবরাহে নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত্রুঞ্জয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ছোট আকারের হাই‑ওয়েজ ড্রোন, রিকনসেশন ড্রোন এবং মিশন‑ক্রিটিক্যাল ড্রোনের ওপর দ্রুত ও নির্ভুল আক্রমণ সম্ভব হবে।
সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শত্রুঞ্জয় সিস্টেমটি ইতিমধ্যে উত্তর‑পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে পরীক্ষা চালু হয়েছে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে আঘাতের পরিসর ও নির্ভুলতা দুটোই আন্তর্জাতিক মানের সমান হবে। এই ব্যবস্থা দেশের শিল্প ও গবেষণা সংস্থার জন্যও একটি বড় গর্ব, কারণ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় অংশীদারিত্বে তৈরি, তাই রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেটের কাজও স্বতন্ত্রভাবে করা যাবে।
শত্রুঞ্জয় সিস্টেমের সফল চালু হওয়া শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং দেশের প্রযুক্তি-উদ্ভাবন ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, শত্রুঞ্জয় অ্যান্টি‑ড্রোন ব্যবস্থা দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করেছে। এটি দেশীয় প্রযুক্তির স্বনির্ভরতা বাড়িয়ে, সামরিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।




