নেপাল থেকে আসা বন্যার জলে ভেসে এল ‘অচেনা’ মাছ, খেয়ে অসুস্থ বহু; বিহারে লাল সতর্কতা
national18 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

নেপাল থেকে আসা বন্যার জলে ভেসে এল ‘অচেনা’ মাছ, খেয়ে অসুস্থ বহু; বিহারে লাল সতর্কতা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

নেপাল থেকে আসা বন্যার জলে ভেসে আসা অদ্ভুত মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিহারের বহু মানুষ। প্রশাসন ওই মাছ ধরা ও খাওয়ার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

নেপাল থেকে নেমে আসা প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তর বিহার। তবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেই এক অদ্ভুত ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাগাহা সংলগ্ন এলাকায়। বন্যার স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসছে অদ্ভুত দর্শন কিছু মাছ, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা। কৌতূহলবশত এবং সহজলভ্য প্রোটিনের আশায় ওই মাছ ধরে খেয়েছেন বহু গ্রামবাসী, আর তার পরেই শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য বিপর্যয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাছগুলোর গঠন এবং রং সাধারণ মাছের চেয়ে আলাদা। বন্যার জলে ভেসে আসা এই মাছগুলো ধরে রান্না করে খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকেরই বমি, পেট ব্যথা এবং তীব্র মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, অসুস্থ হয়ে পড়া বহু মানুষকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এই মাছগুলিতে কোনো বিশেষ ধরণের টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিহার প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বন্যার জলে ভেসে আসা কোনো অপরিচিত মাছ বা জলজ প্রাণী যেন কোনোভাবেই ধরা না হয় এবং ভুলেও তা খাওয়া না হয়। পাশাপাশি, এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবল বন্যায় অনেক সময় পাহাড়ের উচ্চভূমি বা ভিন্ন জলধারা থেকে এমন কিছু প্রজাতি ভেসে আসে, যা সমতলের মানুষের জন্য পরিচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই মাছগুলো বিষাক্ত হতে পারে অথবা বন্যার দূষিত জলের সংস্পর্শে এসে সেগুলিতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এই ধরণের খাবার গ্রহণ করা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বর্তমানে ওই এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বন্যার জল নামার আগে এই রহস্যময় মাছের আতঙ্ক কাটতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সচেতনতাই এখন এই বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র পথ।

#Bihar Flood#Health Warning#Strange Fish#Bagaha News

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX