
‘আর কোনো মামলাতেই থাকব না’, এবার অভিষেকের ওপর চটলেন কল্যাণ
সই জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্টের শুনানির মাঝখানে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ চৌধুরী হঠাৎ একা দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও আইনি অবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
কলকাতা—তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে আরেকটি কঠিন মোচড়। সই জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলার মাঝখানে, তৃণমূলের বারোতম আইনজীবী নিলেন এক অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ। বর্ষীয়ান আইনজীবী ও তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ চৌধুরী, যিনি বহু বছর ধরে অভিষেকের আইনগত পরামর্শদাতা, হঠাৎ করে মামলাটিতে নিজের নাম তুলে নেন না, বরং ‘একাকী’ হয়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
কল্যাণের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণের জটিল গাঁথা। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পার্টির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ এবং কোর্টের ভিন্নমতের কারণে তিনি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাছাড়া, সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন প্রমাণের উন্মোচন ঘটতে পারে, যা পার্টির ইমেজকে ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এই ঘটনার ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কৌশলগত অবস্থান আবার প্রশ্নের মুখে। পার্টির মুখপাত্ররা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, আদালতে কোনো অতিরিক্ত দোষারোপের ভিত্তি না থাকলে অভিষেকের পক্ষে সবার সমর্থন থাকবে। তবে, আইনজীবী কল্যাণের ‘একাকী’ হওয়া অস্থায়ী পদক্ষেপ, তা না হলে পার্টির অন্যান্য আইনজীবীরা এই মামলায় অংশ নেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধাক্কা তৃণমূলের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে। যদি অভিষেকের পক্ষে আদালতে সঠিক রায় আসে, তবে পার্টির আইনি কাঠামো পুনর্গঠন হতে পারে; অন্যথায়, অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবুও, তৃণমূলের নেতৃত্বের কাছে এখনো সময় আছে, যাতে এই সমস্যাকে সুষ্ঠু সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়া যায়।
উপসংহারে বলা যায়, কল্যাণের অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ অভিষেকের জন্য এক ধরণের ‘আইনি একাকিত্ব’ তৈরি করেছে, তবে পার্টির সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আদালতের ন্যায়বিচারই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কিভাবে এই সই জালিয়াতি মামলাটি শেষ হবে।




