মমতা কালে কাটমানি‑তোলা! পালাবদলে সিভিক স্বেচ্ছাসেবীদের ময়লা পরিষ্কারে ব্যবহার করছে পুরসভা
রাজনীতিএইমাত্র১ মিনিট পড়ুন

মমতা কালে কাটমানি‑তোলা! পালাবদলে সিভিক স্বেচ্ছাসেবীদের ময়লা পরিষ্কারে ব্যবহার করছে পুরসভা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

পুরসভা সিভিক স্বেচ্ছাসেবকদের ময়লা পরিষ্কারের কাজে জোর দিচ্ছে, ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের স্বতন্ত্রতা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে এই বিরোধ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

মমতার শাসনকালে “কাটমানি‑তোলা” নামে পরিচিত দ্রুতগতি সম্পন্ন নগর পরিষেবা প্রকল্পে শহরের গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক জায়গা থেকে অপ্রয়োজনীয় সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হতো। তবে আজকের কলকাতা, যেখানে পুরসভা (পুরাতন সিটি কর্পোরেশন) আবার সিভিক ভলান্টিয়ার্সকে নিযুক্ত করে ময়লা পরিষ্কারের কাজে লাগাচ্ছে, সেখান থেকে নাগরিকদের মধ্যে বেমানান রাগের ঝলক দেখা যাচ্ছে।

সিভিক স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর পরিষ্কার‑সুন্দর করা, এখন পুরসভা কর্তৃক গৃহীত “সামাজিক পরিষেবা” শিরোনামে চুক্তিভিত্তিক কাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদেরকে গাড়ি, বাস, ট্রাকের ওপর বসে রাস্তায় বিক্ষিপ্ত কাচ‑কাগজ‑প্লাস্টিক সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে; যদিও এই কাজের জন্য কোনো বেতন বা ভাতা ঘোষিত হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ইসেবে অভিযোগ তুলেছেন যে, সিভিক স্বেচ্ছাসেবকদের এইভাবে ব্যবহার করা মমতার “কাটমানি‑তোলা” নীতির বিকৃতি এবং স্বেচ্ছাসেবক আন্দোলনের স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতাকে ক্ষুন্ন করে। তারা দাবি করছেন যে, পুরসভা এই স্বেচ্ছাসেবকদেরকে “শহরের ময়লা পরিষ্কারের হাতের মেশিনে” রূপান্তরিত করে, যা স্বেচ্ছাসেবকদের নৈতিক ও আইনি সুরক্ষাকে লঙ্ঘন করে।

বিপরীতপক্ষে পুরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, নগর পরিষ্কারের কাজের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য দরকার, আর সরকারী বাজেটের ঘাটতি এই ধরণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তবে শহরের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা এই স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে, দেখছে যে “সিভিক” শব্দের মানে এখনই “দাবানবাজি” হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা আর্থিক সুবিধা ছাড়া কঠিন কাজের ঝাঁকুনিতে আটকে আছে।

উপসংহারে বলা যায়, মমতার শাসনকালের “কাটমানি‑তোলা” নীতি যদিও নৈকট্যপূর্ণ ও উদ্ভাবনী ছিল, তবে বর্তমান পুরসভা-সিভিক স্বেচ্ছাসেবক পারস্পরিক সম্পর্কটি যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাবে জনমতের বিরক্তি বাড়িয়ে তুলেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করে, নগর পরিষ্কারের জন্য একটি সুষম ও টেকসই মডেল গড়ে তোলা না হলে এই বিরোধ অব্যাহত থাকবে, যা শহরের পরিষ্কার‑সুন্দর পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX