
শীতলকুচিতে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, উত্তপ্ত গোটাএলাকা
শীতলকুচিতে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ফলে রাস্তায় গতি আটকে যায়, স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, বিক্ষোভকারীরা গতি না থামিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে ব্যাহত করে।
শীতলকুচির রাস্তায় মঙ্গলবার বেলা সিপিএমের নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বড় স্কেলের বিক্ষোভ শুরু হয়। রেলস্টেশন কাছের মোড়ে সেমি-ট্রাক থেকে সিঁড়ি পর্যন্ত মানুষ জড়ো হয়ে তীব্র চিৎকারে শাসনকর্তা-অবসরপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নীতি-নিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। প্রতিবাদকারীরা বলছে, গাড়ি ঘিরে হামলা এবং গালিগালাজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করেছে।
পুলিশের হাতে ত্রিশের বেশি দল গিয়ে ভিড়কে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করলেও, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ও পাথর ছুঁড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে বাধা দিচ্ছে। কয়েকজন প্রতিবাদকারী গ্রিপে ধরা পড়ে, তবে বেশিরভাগই দ্রুতই ছড়িয়ে যায়, ফলে অস্থায়ীভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রেলওয়ে সেতু থেকে গমনকারী গাড়িগুলো অগ্রিমে মোড় ঘুরে যায়, ফলে সারা গোটাএলাকায় যানজটের সৃষ্টিতে প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, শীতলকুচিতে এই রকমের উত্তেজনা সিপিএমের গৃহযুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে। গৃহবিষয়ক নীতি নিয়ে পার্টির ভিতরে ভিন্নমত গড়ে উঠলে, এমনই প্রকাশ্য বিক্ষোভের ঝড় উঠতে পারে। মীনাক্ষীর নেতৃত্বে পার্টির তরুণ শাখা ও পুরোনো নেতা-সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ার ফলে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, বিক্ষোভের সময় কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে গোটাএলাকায় শীতলকুচি বাজারের ব্যবসায়িক চেইনগুলির ক্ষতি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, শিথিলতা বজায় রেখে, গাড়ি নিরাপদে রাস্তায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করে পার্টি নেতারা পরবর্তী দিন একটি সভা আহ্বান করার কথা জানিয়েছে। এই ঘটনার পর, শীতলকুচি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে সময় লাগবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।




