‘খুনিদের সঙ্গে বসে চা খাব না’, জেলা প্রশাসনের বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট বিজেপি বিধায়কের
রাজনীতি8 ঘণ্টা আগে২ মিনিট পড়ুন

‘খুনিদের সঙ্গে বসে চা খাব না’, জেলা প্রশাসনের বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট বিজেপি বিধায়কের

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

বাঁকুড়ায় জেলা প্রশাসনের শান্তি বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করলেন বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। অপরাধীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে অস্বীকার করে তাঁর এই পদক্ষেপের ফলে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

বাঁকুড়ার রাজনৈতিক ময়দানে এখন চরম উত্তেজনা। জেলা প্রশাসনের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মাঝপথেই ওয়াকআউট করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। বৈঠকের পরিবেশ এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাদের তিনি খুনি বলে মনে করেন, তাদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে আলোচনা করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। বিধায়কের এই আকস্মিক প্রস্থানের ফলে জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় যেমন ছেদ পড়ল, তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।

সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের মাঝপথেই অভিযোগ তোলেন নীলাদ্রিশেখর দানা। তাঁর দাবি, যে সমস্ত ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং যারা সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসে সৌজন্যমূলক আলোচনা করা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং অনৈতিক। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েই তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি বিধায়কের এই পদক্ষেপকে তাঁর দলের সমর্থকরা সমর্থন জানালেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন বা স্থানীয় সংঘাতের আবহেই এই ধরনের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যেকার এই দূরত্ব এখন প্রশাসনিক স্তরেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের কাজে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যেই সকলকে এক টেবিলে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিধায়কের এই আচরণের ফলে আলোচনার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, আর তাই তাঁদের এই কঠোর অবস্থান। এখন দেখার, এই সংঘাতের পর জেলা প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে।

সামগ্রিকভাবে, বাঁকুড়ার এই ঘটনাটি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতারই এক প্রতিফলন। যখন প্রশাসনিক আলোচনার টেবিলে সৌজন্যের চেয়ে অভিযোগের পাল্লা ভারী হয়ে যায়, তখন উন্নয়নের কাজ এবং শান্তি রক্ষা— দুই-ই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আগামী দিনে এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX