
জাপানের প্রাক্তন মন্ত্রী বুলেট ট্রেন প্রকল্পে দিলেন বিলম্বের অভিযোগ, তবে মন্ত্রক জানালেন পরিকল্পনামাফিক কাজ চলছে
জাপানের প্রাক্তন মন্ত্রী বুলেট ট্রেন প্রকল্পে বিলম্বের অভিযোগ তুললেও, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। দু'দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রকল্পকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে।
মুম্বই‑আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্পে জাপানের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রী হিদেকি সাওইতোরি সাম্প্রতিক মন্তব্যে বলছেন, কাজের অগ্রগতিতে ধারাবাহিক বিলম্ব দেখা দিচ্ছে। তিনি জানাবার সময় উল্লেখ করেছেন, “প্রকল্পের সময়সূচি অনুসারে কাজ না হওয়ায় আমাদের উদ্বেগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে উভয়দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।” তার এই মন্তব্যটি ভারত‑জাপান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে একটি চ্যালেঞ্জের রূপ নেয়।
তবে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই অভিযোগের তীব্রতা কমিয়ে, স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দু'দেশের যৌথ উদ্যোগ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। মন্ত্রক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পর্যায়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়েছে এবং কাজের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার রেলপথে আধুনিক বুলেট ট্রেন চালু করা, যা যাত্রীদের গতি বৃদ্ধি করে ভ্রমণ সময় কমিয়ে দেবে। এই রেললাইনটি সম্পন্ন হলে ভারতের প্রথম হাই‑স্পিড রেললাইন হিসেবে দেশীয় ট্রান্সপোর্টে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া, জাপানের দক্ষতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নেও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, বুলেট ট্রেন প্রকল্পটি বহুবার রাজনৈতিক ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে, উভয়দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক মানের মানদণ্ড অনুসারে কাজের গতি বাড়াতে নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, প্রকল্পের সাফল্য কেবলমাত্র প্রযুক্তিগত দিক থেকে নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলার দিক থেকেও মাপা হবে।
উপসংহারে বলা যায়, জাপানের প্রাক্তন মন্ত্রী যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা প্রকল্পের পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দেবে, আর ভারত‑জাপান মন্ত্রক যে আশ্বাস দিয়েছেন তা কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু অগ্রসর হয়, তবে বুলেট ট্রেন প্রকল্পটি দেশের রেলপথে নতুন রূপ দেবে এবং দু'দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।




