
বিদ্যুৎ চুরিতে ‘জিরো টলারেন্স’— নতুন ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ চালু করলেন সরকার
সরকার হুকিং রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আর ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ চালু করে কঠোর পদক্ষেপ নিল। রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত নোটিফিকেশনের মাধ্যমে চুরির শিকার হ্রাসের প্রত্যাশা।
কলকাতা— রাজ্যের বিদ্যুৎ চুরি ও হুকিংয়ের দুশ্চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য শীঘ্রই কঠোর পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। গত সপ্তাহে কলকাতা বিদ্যুৎ সত্তা (WBSEDCL) ও বৈদ্যুতিক বিভাগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হস্তক্ষেপ করে ঘোষণা করলেন, “হুকিং রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি চালু হবে।” তিনি বলেন, চুরির শিকার গ্রাহক ও শিল্পখাতের ক্ষতি এখন আর সহ্য করা যাবে না।
এই ঘোষণার সাথে সাথে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হলো। অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা রিয়েল‑টাইমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ডেটা দেখতে পারবে, অস্বাভাবিক লোডে সতর্কতা পাবে এবং সরাসরি হুকিং সন্দেহে অভিযোগ করতে পারবে। এছাড়া, অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্কে অস্বাভাবিক প্রবাহ সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট স্টেশনে রিয়েল‑টাইম নোটিফিকেশন পাঠাবে।
WBSEDCL ইতিমধ্যে এই অ্যাপের জন্য একাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালাবে, কোনো হুকিং সনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। হুকিং ধরা পড়লে অপরাধীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সম্পূর্ণ জবাবদিহি করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগে শিল্পখাতের নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, হুকিং বন্ধ হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং বিদ্যুৎ বিলের অযথা বাড়তি চাপ কমবে। একই সঙ্গে, গ্রাহক সুরক্ষার জন্য এই অ্যাপের ব্যবহার সহজ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে।
উপসংহারে বলা যায়, ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপের মাধ্যমে হুকিং‑বিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন হলে, রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে চুরির শিকার কমে যাবে এবং সব স্তরের গ্রাহকই স্বস্তি পাবে।




