মমতা শাসনে ঋণ বাড়লেও বিনিয়োগ না— CAG রিপোর্টে আর্থিক দুর্নীতির সূঁচ শমীক ভট্টাচার্যকে তাড়া দিল
রাজনীতি12 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

মমতা শাসনে ঋণ বাড়লেও বিনিয়োগ না— CAG রিপোর্টে আর্থিক দুর্নীতির সূঁচ শমীক ভট্টাচার্যকে তাড়া দিল

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

CAG’র নতুন রিপোর্টে দেখা গেল, মমতা শাসনে পশ্চিমবঙ্গের ঋণ বেড়েছে কিন্তু নতুন বিনিয়োগের প্রবাহ নেই। এতে BJP রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র সমালোচনা করে, আর্থিক দুর্নীতি ও নীতি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) যে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে রাজ্যের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে কিন্তু নতুন বিনিয়োগের প্রবাহ মন্দার চিহ্ন দেখাচ্ছে। এই তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেতা, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সরব হয়ে উঠেছেন এবং সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা তুলেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের শেষে পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণ প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, রাজ্যের সাধারন ব্যয় বৃদ্ধির হার ৯.২ শতাংশ ছিল, যদিও কেন্দ্রীয় সহায়তা কিছুটা বাড়লেও তা মোট ব্যয়ের তুলনায় ক্ষুদ্র। আর্থিক ঘাটতি বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে CAG উল্লেখ করেছে অব্যবস্থাপিত রাজস্ব সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ।

বিনিয়োগের দিক থেকে রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ২০২২-২৪ সময়কালে নতুন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং বেসরকারি খাতের মূলধন প্রবাহে কোনো সুস্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যায়নি। শিল্প, সেবা ও অবকাঠামো খাতে নতুন প্রকল্পের সূচনা কমে গিয়েছে; বিশেষ করে টেকসই জ্বালানি ও গৃহোন্নয়ন খাতে অবহেলামূলক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ধীর গতির বিনিয়োগ রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধা দিচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্য রিপোর্টের পর "দ্রুত ঋণ বাড়লে রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব পড়ে" বলে মন্তব্য করেন এবং মমতা শাসনকে "দায়িত্বশীল আর্থিক নীতি গড়ে তোলার আহ্বান" জানান। তিনি এই বিষয়টি সামনে আনে যাতে জনগণ জানে কীভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোথায় দুর্নীতির ফাঁকফাঁটি রয়েছে। শমীক আরও যোগ করেন, "বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও মন্দা হয়, আর তা সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।"

উপসংহারে বলা যায়, CAG রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যগুলো শুধু আর্থিক সূচকের পতনই নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। ঋণ বাড়লেও বিনিয়োগ না হওয়া একটি সতর্ক সংকেত, যা শমীক ভট্টাচার্যের মতো রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র দৃষ্টিভঙ্গি ও সংশোধনী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। যদি এই সমস্যাগুলো সমাধান না করা যায়, তবে রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়ানো কঠিন হবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX