
৯৩ কোটির সম্পদ, ৮৩ ট্রাক ও ফার্ম হাউস: টুলুর সম্পত্তির খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বাড়ছে। সরকার তার ৯৩ কোটি টাকার সম্পদ, ৮৩টি ট্রাক ও ফার্ম হাউস বাজেয়াপ্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
বীরভূমের বিতর্কিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বাড়ছে। পুলিশ গত শুক্রবার তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, মোট ৯৩ কোটি টাকার সম্পদ, ৮৩টি ট্রাক এবং একাধিক ফার্ম হাউস হাতে নিল। এই পদক্ষেপের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বললেন, “অবৈধ সম্পদ নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করা হলে আইন ন্যায়বিচারকে চ্যালেঞ্জ করে না, বরং জনসাধারণের বিশ্বাসকে ক্ষুন্ন করে।”
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির তালিকায় শিকড়ভিত্তিক ব্যবসা, গৃহ, জমি এবং বাণিজ্যিক গুদাম অন্তর্ভুক্ত। টুলু মণ্ডল, যাকে বহুবার ‘পাথর সম্রাট’ বলে ডাকা হয়, তার আর্থিক লেনদেনের ওপর সরকারী তদন্ত চলছে। তিনি আগে বহুবার অবৈধ খনন ও মাটির চুরি নিয়ে অভিযোগে মুখোমুখি হয়েছেন, তবে এইবার তার সম্পদ সরাসরি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় তার রাজনৈতিক প্রভাবের উপর বড় আঘাত পোহাচ্ছে।
রাজ্য সরকার টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও সহায়কদের উপরও সমানভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে, বিরোধী দলগুলোও সরকারকে ‘দ্রুত কাজ’ করার প্রশংসা করে, তবে তদুপরি টুলু মণ্ডলের পক্ষে থাকা কিছু স্থানীয় নেতার কাছ থেকে সমালোচনা শোনা যায়। তারা বলেন, “মহামারী ও বেকারত্বের সময়ে এই ধরনের বড় বাজেয়াপ্তি জনমতকে বিভক্ত করতে পারে।”
অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের ফলে রাজ্যকে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। তবে টুলু মণ্ডলের সম্পদের প্রকৃত উৎস ও তার রাজনৈতিক সংযোগের গোপনীয়তা এখনও উন্মোচিত হয়নি, যা ভবিষ্যতে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
উপসংহারে স্পষ্ট যে, টুলু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে এই বড় বাজেয়াপ্তি শুধু আইনি প্রয়োগই নয়, রাজ্য রাজনৈতিক দৃশ্যের পরিবর্তনেও ইঙ্গিত করে। অবৈধ সম্পদকে ন্যায়সঙ্গত পথে ফিরিয়ে আনতে সরকার কীভাবে পদক্ষেপ নেবে, তা বীরভূম ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।




