২০২১‑এর পর থেকে মোদীর বিদেশ সফরের মোট খরচ ৫৫৭.৫১ কোটি টাকা — ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চমকপ্রদ প্রকাশ
রাজনীতি19 ঘণ্টা আগে২ মিনিট পড়ুন

২০২১‑এর পর থেকে মোদীর বিদেশ সফরের মোট খরচ ৫৫৭.৫১ কোটি টাকা — ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চমকপ্রদ প্রকাশ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২১‑এর পর থেকে মোদীর বিদেশ সফরের মোট ব্যয় ৫৫৭.৫১ কোটি টাকা হয়েছে। এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি বাড়ছে।

মন্তব্যহীনভাবে গৃহস্থালীর টেবিলে বাজেটের ভার বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২১ সালের শুরুর পর থেকে মোদীর বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় ৫৫৭.৫১ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই সংখ্যা শুধুমাত্র বিমান ভাড়া, হোটেল, সিকিউরিটি এবং স্টাফের পারিতোষিকই নয়, সংশ্লিষ্ট সেবাকর্মীর অতিরিক্ত ভাতা ও গৃহস্থালির বিলাসবহুল সেবা অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীত দুই বছরেই প্রধানমন্ত্রী মোট ২৪টি বহুপাক্ষিক বৈঠক ও শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক সফরে গড়ে ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, যা দেশের গৃহস্থালীর উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনায় চমকপ্রদ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে করা উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ভ্রমণ ব্যয়ের অনুপাত বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ব্যয় যদি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ না করা হতো, তবে নাগরিকদের বিশ্বাসের ক্ষতি হতে পারত।

বিবিধ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের ব্যয়কে সাময়িক জরুরি অবস্থা হিসেবে ধরা যায় না, কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য অন্যান্য সস্তা বিকল্পও রয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, বিদেশ সফরের আগে যথাযথ পরিকল্পনা ও খরচের হিসাব করা উচিত, যাতে জনগণের কষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। তদুপরি, প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, একই সময়ে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক স্কিমের বাজেট কাটছাঁটের খবরও প্রকাশ পেয়েছে, যা জনমতকে উদ্বিগ্ন করেছে।

মোদি সরকার এই তথ্যের প্রতি কোনো মন্তব্য দেয়নি, তবে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পর্যটন ও কূটনৈতিক মিশনের জন্য ব্যয় করা টাকার সবই দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। তবে, নাগরিকদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার আহ্বান বাড়ছে। সমালোচনাকারীরা দাবি করছে, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের খরচের বিস্তারিত তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা দরকার, যাতে জনসাধারণের বিশ্বাস পুনর্গঠন করা যায়।

উপসংহারে বলা যায়, ২০২১ থেকে মোদীর বিদেশ সফরের বিশাল ব্যয় দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যদি তা যথাযথভাবে পরিচালনা না করা হয়। তাই, সরকারের দায়িত্ব হল এই খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনমতকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই ধরনের স্বচ্ছতা না হলে, ভবিষ্যতে সরকারের নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে জনসাধারণের সমর্থন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX