
বাংলা জয়ের পুরস্কার? নিতিন নবীনের কেন্দ্রীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরলেন সুনীল বনসল
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরলেন সুনীল বনসল। রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, পূর্ব ভারতে বিশেষ করে বাংলার সাংগঠনিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের মধ্যেই ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল হলেন সুনীল বনসল। দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সোমবার যখন নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহক কমিটির তালিকা ঘোষণা করা হলো, তখন দেখা গেল সুনীল বনসলের গুরুত্ব অপরিসীম। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, পূর্ব ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপির যে প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, তার পুরস্কার হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
সুনীল বনসল দীর্ঘ সময় ধরে দলের রণকৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছেন। বিশেষ করে বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দলের ভেতরেই কথা শোনা যাচ্ছে যে, নিতিন নবীনের নতুন টিমে সুনীল বনসলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করতে চায় গেরুয়া শিবির। সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কই তাঁকে এই বিশেষ অবস্থানে বসিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল আসলে একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। একদিকে যখন জাতীয় স্তরে নেতৃত্ব বদল হচ্ছে, তখন মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিমবঙ্গের মতো চ্যালেঞ্জিং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যেখানে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই তীব্র, সেখানে সুনীল বনসলের মতো অভিজ্ঞ সংগঠকের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে পূর্ব ভারতে দলের বিস্তার ঘটাতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
তবে এই রদবদলের ফলে দলের অভ্যন্তরে কিছু ছোটখাটো রেষারেষি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবুও, নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সুনীল বনসলের এই প্রত্যাবর্তন দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, বিজেপির এই নতুন বিন্যাস আগামী নির্বাচনগুলোর কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন রক্ত মিশিয়ে এক শক্তিশালী দল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, সাংগঠনিক রদবদলের এই ঝোড়ো হাওয়ায় সুনীল বনসল নিজের জায়গা ধরে রাখলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং দলের সামগ্রিক রণকৌশলেরই অংশ। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন নেতৃত্বের রসায়নে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি কতটা বৃদ্ধি পায় এবং তার প্রভাব বাংলার রাজনীতিতে কতটা পড়ে।




