
নেদারল্যান্ডসেও পৌঁছে গেল বাংলার ‘ঝালমুড়ি’ বিতর্ক! বিদেশ সফরেই নির্বাচনী লড়াইয়ের সুর প্রধানমন্ত্রী মোদীর
2 মিনিটনেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েও বাংলার ‘ঝালমুড়ি’ বিতর্কের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের এই ছোট ইস্যুটি যেভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন আর শুধু রাজ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে। নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে এবার উঠে এল বাংলার সেই আলোচিত ‘ঝালমুড়ি’ বিতর্ক। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় ঝালমুড়ি নিয়ে যে তুমুল তরজা শুরু হয়েছে, তার রেশ এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শোনা গেল। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিল, দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও বাংলার লোকাল ইস্যু এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রতিটি খুঁটিনাটি তাঁর নজরে রয়েছে।
সাধারণত বিদেশ সফরে রাষ্ট্রপ্রধানরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বা অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই মন্তব্য যেন এক ভিন্ন সংকেত দিল। নেদারল্যান্ডসে অবস্থান করেও তিনি যখন বাংলার ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, তখন স্পষ্ট বোঝা গেল যে আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল ও বিজেপির এই লড়াই কতটা তীব্র আকার নিয়েছে। বিরোধীদের আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ এখন কেবল খবরের কাগজ বা টিভি চ্যানেলের বিষয় নয়, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক আন্তর্জাতিক চর্চার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ধরণের ঘরোয়া এবং হালকা মেজাজের কথা বলার কৌশল আসলে ভোটারদের সঙ্গে এক ধরণের মানসিক সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা। বাংলার সংস্কৃতির অংশ ঝালমুড়ির কথা বলে তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের আবেগ ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অবগত। একইসঙ্গে, বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিতে তিনি এখন কৌশলগতভাবে ‘লোকাল ইস্যু’র অস্ত্র ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনী প্রচারের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা প্রবল। রাজ্যের শাসক দল মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গিয়েও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছেন। তবেRegardless of the political clash, এই ঘটনাটি প্রমাণ করল যে বাংলার রাজনীতি এখন এতটাই উত্তপ্ত যে তার প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক সফরের আলাপচারিতাতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ঝালমুড়ির এই প্রসঙ্গটি কেবল একটি খাবারের কথা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি রাজনৈতিক প্রতীক। একদিকে শাসক দলের দাবি এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা কটাক্ষ— এই পুরো লড়াই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। নেদারল্যান্ডসের মাটিতে এই আলোচনা প্রমাণ করে দিল যে, বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে এবং প্রতিটি ছোট বিষয়ই এখন বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।




