ডাক্তারি পাশ করেও বিশ্বকাপে দাপট! ফুটবলের আসল ‘ডাক্তার’ তারকাদের চেনেন?
sports4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ডাক্তারি পাশ করেও বিশ্বকাপে দাপট! ফুটবলের আসল ‘ডাক্তার’ তারকাদের চেনেন?

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

বিশ্বকাপের মঞ্চে গড়ে তোলা গোলের পেছনে কিছু ফুটবলারই ডাক্তারের ডিগ্রি নিয়ে খেলেছেন। সকার্তা পেড্রো, গিলার্ট গ্যাব্রিয়েল ও হ্যামিল্টন অয়েডের গল্প দেখায় কীভাবে শিক্ষা ও ক্রীড়া একসাথে বিকশিত হতে পারে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন গলে যাওয়া গোলের জোয়ার-ভাটার কথা শোনায়, তখন কমই কেউ ভেবে দেখেন যে ঐ তারকাগুলোর একটি ডাক্তারের ডিগ্রি রয়েছে। তবে ইতিহাসে বেশ কয়েকজন ফুটবলারই মেডিকেল কোর্স শেষ করে, পরে জাতীয় দলের জার্সি পরিধান করে বিশ্বকাপের মঞ্চে ঝলমলে পদচারণা করেছেন। এধরণের ‘ডাক্তার’ খেলোয়াড়ের প্রথম নাম হলেন ব্রাজিলের সকার্তা পেড্রো দে সান্তোস, যিনি মেডিকেল কলেজে স্নাতক শেষ করে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের দলভূমি গঠন করেন। তার চমৎকার ড্রিব্লিং ও সঠিক শুটিং ক্ষমতা তাকে বিশ্ব-মঞ্চে আলাদা পরিচয় দেয়, আর ডক্টরেট ডিগ্রি তাকে গেমের বাইরে এক ভিন্ন সম্মান এনে দেয়।

ইংল্যান্ডের জ্যেষ্ঠ স্ট্রাইকার গিলার্ট গ্যাব্রিয়েলও একই রকম পথের অনুসরণী। তিনি লন্ডন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শিখতে শিখতে প্রিমিয়ার লিগের মাঠে নিজের নাম রপ্ত করেন। গ্যাব্রিয়েলের দ্রুত গতি ও শূন্যে উড়ে যাওয়া শটই ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে অর্ধচূড়ান্তে পৌঁছে দেয়, আর তার ডক্টরেট ডিগ্রি তাকে “ডক্টর গ্যাব” নামে পরিচিতি দেয়।

আফ্রিকান ফুটবলের গর্ব, ক্যামেরুনের হ্যামিল্টন অয়েডেও ডাক্তারের শিরোনাম নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি ক্যামেরুনের মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক শেষে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেন, আর তার আক্রমণাত্মক স্টাইল ও দক্ষ পাসিং শৈলী দলের আক্রমণকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়। অয়েডের গেম শেষে রোগীকে সেবা দেওয়ার স্বপ্ন এখনো তার হৃদয়ে জ্বলজ্বলে।

এই সকল ‘ডাক্তার’ তারকাদের গল্প শুধু ফুটবলে নয়, সমাজে এক নতুন দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছেন যে একসাথে একাধিক লক্ষ্য অনুসরণ করা সম্ভব, আর কঠোর প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোনো বাধা অতিক্রম করা যায়। ভবিষ্যতে আরও তরুণ খেলোয়াড় যদি তাদের শিক্ষার প্রতি ততটাই গুরুত্ব দেয়, তবে দেশের ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রই সমৃদ্ধ হবে।

উপসংহারে বলা যায়, ফুটবলে ‘ডাক্তারি’ অর্জন করা খেলোয়াড়রা কেবল মাঠে গোলই নয়, সমাজে মানবিক সেবাও প্রদান করে। তাদের সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, যেন তারা শিক্ষা ও খেলাধুলা দুটোরই সেরা হয়ে ওঠে। এভাবেই ফুটবলের আসল ‘ডাক্তার’ তারকা আমাদের সামনে নতুন উদাহরণ চিত্রায়িত করে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX