
৫‑বছরী বীরভূমের শিশুর স্বপ্ন, থাইল্যান্ডে স্বর্ণজয় — জাতীয় মঞ্চে পদক জয়ের পর ৫ থেকে ৬৪ পর্যন্ত যোগীরা নতুন উচ্চতায়
বীরভূমের পাঁচ‑বছরী শিশুটি জাতীয় মঞ্চে পদক জিতেই থাইল্যান্ডে যাওয়ার স্বপ্ন প্রকাশ করেছে। ৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের ক্রীড়াবিদদের সাফল্য দেখিয়ে দিলো যে, এখন গ্রামীণ পর্যায়েও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আছে।
বীরভূমের পাঁচ‑বছরী শিশুটি, জাতীয় স্তরে পদক জিতেই প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, “আমি কি থাইল্যান্ডে যেতে পারব, ম্যাডাম?” এই প্রশ্নটি তার ছোট্ট কণ্ঠে সঞ্চারিত আশাকে স্পষ্ট করে দেখায় যে, দেশের ক্রীড়া মঞ্চে সাফল্য অর্জন করলেই এখন নতুন দিগন্তের স্বপ্ন গড়ে তুলছে। জাতীয় পর্যায়ে ৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নেওয়া এই প্রতিযোগিতায় বীরভূমের ক্রীড়াবিদরা মোট আটটি পদক জিতেছে, যার মধ্যে পাঁচ‑বছরীর প্রথম সোনার পদকও রয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া মঞ্চে বীরভূমের এই সাফল্য কেবলমাত্র স্থানীয় প্রশিক্ষকের কঠোর পরিশ্রমের ফল নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গ শ্রীকৃষ্ণ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা (সিকেপি) এর তহবিলের সঠিক ব্যবহারও এতে ভূমিকা রেখেছে। খেলাধুলার আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ শিবির এবং মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা এখন গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে গেছে, ফলে ছোট বয়সের সন্তানরাও আন্তর্জাতিক স্তরের স্বপ্ন দেখতে পারছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং উচ্চ মানের কোচিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সময়ে বহু ক্রীড়াবিদই আর্থিক অসুবিধার কারণে বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না। বীরভূমের স্থানীয় স্বরাষ্ট্র ও ক্রীড়া বিভাগকে উচিত, এই ধরনের প্রতিভা চিহ্নিত হয়ে ত্বরিতভাবে সহায়তা প্রদান করা, যাতে শিশুরা স্বপ্নে আটকে না থেকে বাস্তব বাস্তবে রূপান্তর করতে পারে।
বীরভূমের পাঁচ‑বছরী ক্রীড়াবিদ যে প্রশ্ন তুলেছে, তা ক্রীড়া সংস্কারের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তার মতোই বহু তরুণ-যুবক দেশের বিভিন্ন কোণায় একই স্বপ্ন দেখছে; তাই সরকার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যেন তাদের স্বপ্নের পথে বাধা না থাকে। এভাবে ক্রীড়া সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণজয়ের পথে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।




