
যানজট‑মুক্তির নতুন পথে ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’‑এর সূচনা, কোন দুই রুটে হবে প্রথম চালু
কলকাতায় গঙ্গা‑ব্রহ্মপুত্র ও ক্যালাশ নদীর দু’টি রুটে ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ চালু হবে, যা যানজট কমাতে এবং পরিবেশ‑বান্ধব গণপরিবহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কলকাতার সড়ক‑সংকটে আরেকটি সমাধান আসছে—রাজ্য সরকার আজ ঘোষণা করেছে, শহরের দু’টি প্রধান নদী‑পথে ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ (Water Taxi) চালু হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে, গঙ্গা‑ব্রহ্মপুত্র ও ক্যালাশ নদীর ধারে বসে থাকা যাত্রীদের দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ‑বান্ধব সেবা প্রদান করা, যাতে রোডে গড়িয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা কমে যানজটের চাপে কিছুটা স্বস্তি আসে।
প্রথম রুটটি হবে গঙ্গা‑ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল, যেখানে কোলকাতা হাইড্রো‑পোর্ট থেকে সাদা গেট পর্যন্ত পরিষ্কার‑সুন্দর নৌকা‑সেবা চালু হবে। দ্বিতীয় রুটটি ক্যালাশ নদীর তীরে, হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন ও গ্লোবাল সিটি‑এর মধ্যে সংযোগ গড়বে। উভয় রুটেই আধুনিক ভাস্কর্য‑সদৃশ জলপথ‑যানবাহন ব্যবহার করা হবে, যেগুলো বৈদ্যুতিক হাইব্রিড ইঞ্জিনে চালিত, ফলে কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী ‘ক্যালিফোর্নিয়া ট্যাক্সি সেবা লিমিটেড’ (CTSL) ও স্থানীয় ‘বেঙ্গল হিড্রো‑ট্রান্সপোর্ট’ সংস্থা একত্রে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ যাত্রী এই সেবার সুবিধা পাবে, এবং প্রাথমিকভাবে টিকিটের দাম রোড‑ট্যাক্সির সমতুল্য রাখা হবে, যাতে সবার জন্য সুলভ থাকে। সরকার জানিয়েছে, সেবাটি চালু হওয়ার এক মাস পরই ব্যবহারকারীর মতামত সংগ্রহ করে মূল্য ও রুটে সমন্বয় করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই উদ্যোগটি শুধু যানজট কমাবে না, বরং শহরের জলদূষণ কমাতে, নদীর তীরের শীতলতা বজায় রাখতে এবং পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে কিছু প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে—নদীর জলর স্তর কমে গেলে সেবা কি অব্যাহত থাকবে, আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের নিয়মাবলী থাকবে। এই সব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
উপসংহারে, ‘ওয়াটার ট্যাক্সি’ প্রকল্পটি কলকাতার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে, যদি সঠিকভাবে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। নাগরিকদের সহযোগিতা ও সরকারের দৃঢ় অগ্রভাগই এই নতুন জলপথ‑পরিবহনের সাফল্য নির্ধারণ করবে।




