
বিদেশি পর্যটক টানতে অস্ট্রেলিয়ার সংস্থার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বাংলা, বড়সড় পরিকল্পনা রাজ্যের
বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন সংস্থার সঙ্গে চুক্তির কথা ভাবছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুন্দরবন ও দার্জিলিংয়ের মতো জায়গার প্রচার বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলার পর্যটন মানচিত্রে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়াতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিশেষ বোঝাপড়া বা ‘গাঁটছড়া’র চেষ্টা চলছে। দীর্ঘকাল ধরে পর্যটনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ এবং ইউরোপের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নজর টানতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর।
সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের একাধিক নামী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে সেখানে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রচার চালানো হবে। বিশেষ করে সুন্দরবন, দার্জিলিং এবং কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যটন খাতের এই নতুন উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লে শুধু হোটেল বা ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় নয়, স্থানীয় হস্তশিল্প এবং কুটির শিল্পেরও ব্যাপক উন্নতি হবে। পর্যটন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, বাংলার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বিদেশিদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সঠিক প্রচার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব তৈরি হলে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়া নয়, আগামী দিনে আরও কয়েকটি উন্নত দেশের সঙ্গে এই ধরণের চুক্তি করার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলার অদেখা পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। পর্যটকদের জন্য যাতায়াত ও থাকার পরিকাঠামো আরও উন্নত করার দিকেও নজর দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন, যাতে বিদেশি অতিথিরা এখানে এসে সম্পূর্ণ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগ সফল হলে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্প এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার পরিচিতি বাড়লে তা কেবল পর্যটন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাজ্যের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ভূমিকা নেবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন হলে খুব শীঘ্রই বাংলার পথে বিদেশি পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




