
বিমান পরিবহনে নয়া দিগন্ত: কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর গড়তে জমি অধিগ্রহণের পথে রাজ্য সরকার
কলকাতা বিমানবন্দরের চাপ কমাতে কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রাজ্যের। নদিয়ার নয়টি মৌজায় জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
বাংলার আকাশপথে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে এবং রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে এবার নদিয়া জেলার কল্যাণীতে একটি অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জোর দিয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, নদিয়ার নয়টি মৌজায় সম্পত্তির নথি নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে, যা এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মনে করা হচ্ছিল যে, ক্রমবর্ধমান যাত্রী সংখ্যার চাপে দমদম বিমানবন্দরটি হিমশিম খাচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের বিকল্প বিমানবন্দর তৈরির কথা ভাবছে সরকার। কল্যাণীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং যাতায়াতের সহজলভ্যতা এই জায়গাকে বিমানবন্দরের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে কেবল কলকাতা নয়, বরং উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির যাত্রীদের জন্য যাতায়াত অনেক সহজ হবে এবং সময় বাঁচবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহণ শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটবে, যা স্থানীয় অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। পাশাপাশি, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটি রাজ্যের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পে গতি আসে।
তবে এই বিশাল প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জমির সঠিক অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা। প্রশাসন সূত্রে খবর, জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, নিয়ম মেনেই সমস্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে কোনও আইনি অসুবিধা না হয়।
সামগ্রিকভাবে, কল্যাণীতে এই বিমানবন্দর গড়ে ওঠা মানেই পশ্চিমবঙ্গের আকাশপথে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা। এটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্প সফল হলে বাংলা আবারও দেশের বিমান পরিবহণ মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।




