অসমে বন্যা তীব্র, ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৭ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লক্ষের বেশি মানুষ
weather18 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

অসমে বন্যা তীব্র, ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৭ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লক্ষের বেশি মানুষ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

অসমের বন্যা তীব্রতায় ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৭৫-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৩ লক্ষের বেশি, ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা জরুরি।

গুয়াহাটি: অসমের বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় রাজ্যে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা ৭৫-এ অগ্রসর হয়েছে। দুঃখজনক এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ লক্ষের বেশি পৌঁছেছে, যাঁদের মধ্যে বহু পরিবার গৃহহীন ও মৌলিক জলের সংকটে ভুগছে। সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য তীব্র গতি চালু রেখেছে।

বন্যার প্রভাব প্রধানত রাজ্যের নিম্নভূমি এবং নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বেশি দেখা গেছে। বহু গৃহ জলের নিচে ডুবে গিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, ফলে প্রায় ১.৫ লক্ষ পরিবারই অস্থায়ী শেল্টার বা শিবিরে অবস্থান করছে। শিশুরা পর্যাপ্ত স্নান ও পরিষ্কার জল পায় না, ফলে রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জ্বর, ডায়েরিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

অঞ্চলের প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমন্বয়ে ত্রাণ কাজ দ্রুততর করার জন্য বিমান ও ত্রাণ নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। গৃহহীনদের জন্য গরম খাবার, পরিস্কার জল ও মৌলিক ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ত্রাণ শিবিরে সঞ্চিত টাকার একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্রয়ে ব্যয় করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়। তদুপরি, বৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও নদীর স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় বন্যা রোধে বাধ্যতামূলক অবকাঠামো গঠনের কাজ দ্রুততর করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বন্যা মৌসুমে গড়ে গড়ে বাড়তি বৃষ্টিপাত ও বন্যা-প্রবণ নদী ব্যবস্থার দুর্বলতা মূল কারণ। তাঁরা অতিরিক্ত বৃষ্টির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতা জারি করার, জলের সঠিক নিঃসরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার, এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। একদিকে, স্থানীয় জনগণও বন্যা মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী সেবক হিসেবে কাজ করে ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।

উপসংহারে বলা যায়, অসমের বন্যা মানবিক সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ত্রাণের ত্বরান্বিত ব্যবস্থা জরুরি। সরকার, মানবিক সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই বিপর্যয় থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এমন ধ্বংসাত্মক বন্যা রোধ করা সম্ভব হবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX