পুজোর মুখে দুর্যোগের ভ্রুকুটি! বঙ্গোপসাগরে দানা বাঁধছে ঘূর্ণিঝড়, চিন্তায় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ
weather18 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

পুজোর মুখে দুর্যোগের ভ্রুকুটি! বঙ্গোপসাগরে দানা বাঁধছে ঘূর্ণিঝড়, চিন্তায় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

মহালয়ার পর পুজোর মুখে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসে চিন্তায় কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা।

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে যখন শহরজুড়ে পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এল আশঙ্কার খবর। চলতি মাসের শেষেই বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় দানা বাঁধার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে পশ্চিমবঙ্গ তথা দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে। পুজোর আনন্দ কি তবে জল হয়ে যাবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে এই ঘূর্ণাবর্তটি দ্রুত গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই দুর্যোগের প্রভাব থাকতে পারে। যদি ঘূর্ণিঝড়টি সঠিক পথে অগ্রসর হয়, তবে কলকাতা সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন জলমগ্ন হতে পারে শহরের রাস্তা, অন্যদিকে প্রবল হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজ।

ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়লে জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সক্রিয় হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক গতিপথ এবং তীব্রতা বুঝতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে এটি কতটা বিধ্বংসী হবে, তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন প্রবল উৎকণ্ঠা। বিশেষ করে যারা পুজোর কেনাকাটা বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য এই খবরটি বেশ উদ্বেগের। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, পুজোর ঠিক আগে বা পুজোর সময় দক্ষিণবঙ্গে প্রায়ই নিম্নচাপের প্রভাব দেখা যায়। তবে আশা করা হচ্ছে, সঠিক সময়ে সঠিক পূর্বাভাস এবং যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পরিশেষে বলা যায়, উৎসবের মরসুমের মুখে প্রকৃতির এই খামখেয়ালি মেজাজ সত্যিই চিন্তার। তবে আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এখন সকলের প্রত্যাশা, পুজোর দিনগুলিতে আকাশ পরিষ্কার থাকুক এবং কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ যেন উৎসবের আমেজ নষ্ট না করে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX