মাছ রফতানিতে বড়সড় লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের, সুন্দরবনে গড়ে উঠবে ইলিশ হাব
business13 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

মাছ রফতানিতে বড়সড় লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের, সুন্দরবনে গড়ে উঠবে ইলিশ হাব

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

মাছ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা করল রাজ্য সরকার। সুন্দরবনে ইলিশ হাব তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রাজ্যের মৎস্য শিল্পের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। রাজ্যের মাছ রফতানির পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্যপূরণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মাছের চাহিদা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

এই মহাপরিকল্পনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুন্দরবনে একটি অত্যাধুনিক 'ইলিশ হাব' গড়ে তোলা। সুন্দরবন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইলিশ মাছের প্রাচুর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এই হাবের মাধ্যমে মাছের সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ এক ছাদের তলায় আনা সম্ভব হবে, যা সরাসরি রফতানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীরা সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন কোল্ড স্টোরেজের আধুনিকীকরণ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাছের গুণমান বজায় রেখে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে শুধু যে রফতানি বাড়বে তা নয়, রাজ্যের হাজার হাজার মৎস্যজীবীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে না, বরং বিশ্ববাজারে পশ্চিমবঙ্গের ইলিশের ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বাড়িয়ে তুলবে। সরকারি অনুদান এবং কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে ছোট মৎস্যচাষিদেরও এই রফতানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং সরাসরি লাভ পৌঁছাবে উৎপাদকদের হাতে।

সামগ্রিকভাবে, মাছ রফতানির এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা এবং সুন্দরবনের ইলিশ হাব প্রকল্পের বাস্তবায়ন রাজ্যের অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এশিয়ার অন্যতম প্রধান মৎস্য রফতানি কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX