
চিনির দাম বিশ্ববাজারের চাহিদা-জোগানেই নির্ধারিত, নিয়ন্ত্রণ সীমিত সরকারের: জানালেন গডকরি
চিনির দাম বিশ্ববাজারের চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভরশীল বলে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গডকরি। তাঁর মতে, বিশ্বায়িত বাজারে কৃষিপণ্যের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সরকারের সীমিত।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা আর চাহিদা ও জোগানের অসামঞ্জস্যতার কারণেই চিনির দামের ওঠা-নামা হচ্ছে, এতে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত। মঙ্গলবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ মুন্দড়া গডকরি। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বায়িত অর্থনীতির যুগে কৃষিপণ্যের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব, কারণ বাজার এখন আন্তর্জাতিক নিয়মে চলে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, চিনির মতো পণ্যের দাম এখন আর শুধু স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। বিশ্ববাজারে যখন চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ খুব কম। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে বাজারের মুক্ত প্রতিযোগিতাই শেষ পর্যন্ত দাম নির্ধারণ করে, যা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সাধারণত নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে এবং তার দায় চাপানো হয় প্রশাসনের ওপর। তবে গডকরি মনে করিয়ে দেন যে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভারতের সংযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক মন্দা বা জোগানের ঘাটতি সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রভাব ফেলে। ফলে কৃত্রিমভাবে দাম বেঁধে দেওয়ার চেয়ে বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখাই এখন বেশি জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনির দামের এই ওঠানামা কেবল সাধারণ ক্রেতাদেরই নয়, বরং চাষিদের ওপরও প্রভাব ফেলে। একদিকে যেমন বাজারে দাম বাড়লে ক্রেতারা সমস্যায় পড়েন, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়লে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েন। এই জটিল সমীকরণের মধ্যেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার এখন অনেক বেশি সতর্ক। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সঠিক সঞ্চয় ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের পকেটে খুব বেশি প্রভাব না ফেলে।




