এআই-এর জয়জয়কার, কিন্তু বিপদ কোথায়? সতর্ক করলেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
business3 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

এআই-এর জয়জয়কার, কিন্তু বিপদ কোথায়? সতর্ক করলেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রসারে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও চাকরির ঝুঁকি ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। প্রযুক্তির সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসার বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এই চমকপ্রদ অগ্রগতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে একাধিক গভীর ঝুঁকি। সম্প্রতি ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এই প্রযুক্তির অন্ধবিশ্বাসের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনই এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো কর্মসংস্থান। মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, এআই-এর প্রভাবে অনেক প্রচলিত চাকরির ধরন বদলে যাবে এবং বহু ক্ষেত্রে মানুষ তাঁদের কাজ হারাতে পারেন। বিশেষ করে যে কাজগুলি পুনরাবৃত্তিমূলক বা নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা, সেখানে এআই-এর আধিপত্য বাড়বে। এর ফলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধুমাত্র চাকরি নয়, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুল তথ্যের বিস্তার নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন। এআই-এর মাধ্যমে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত গতির সাথে তাল মিলিয়ে যদি সঠিক আইনি কাঠামো বা রেগুলেশন তৈরি করা না যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে মানুষকে নতুন করে দক্ষ করে তুলতে হবে। কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মানুষের সৃজনশীলতা এবং বিচারবুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রযুক্তির ব্যবহার হোক মানুষের সহায়তাকারী হিসেবে, প্রতিস্থাপক হিসেবে নয়— এই বার্তাই এখন স্পষ্ট।

পরিশেষে বলা যায়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান যুগের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর অন্ধ অনুসরণ বিপদ ডেকে আনতে পারে। সতর্ক পরিকল্পনা, সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল এই প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি ভোগ করা সম্ভব। সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামীর অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX