
বেহালায় ভয়াবহ বাস রেষারেষি, দুই বাসের টাক-টাকিতে একাধিক মানুষ মৃত্যু
বেহালার রাস্তায় দুই বাসের রেষারেষিতে একাধিক মানুষ পিষে মারা গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে রেসারেশনের তীব্রতা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার বেহালার সড়কে বৃহস্পতিবার সকালে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুটি যাত্রীবাহী বাসের রেষারেষির সময় একে অপরের সঙ্গে আঘাত করে, ফলে দু'টি বাসের মাঝখানে বসে থাকা যাত্রীদের ভয়াবহ পিষে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ ও মেডিকেল টিম জানিয়েছে, রেসারেশনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে গাড়ির গঠনই ভেঙে গিয়েছিল এবং পৃষ্ঠে থাকা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী পিষে মারা গেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দু'টি বাসই একসাথে একই লেন ব্যবহার করছিল এবং কোনো টকসই সিগন্যালের আগে রেসারেশনের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়েছিল। রেসারেশনের ফলে বাসের সামনের অংশ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে, কাঁচের শিট ও ধাতব গঠন ভেঙে গিয়ে যাত্রীদের উষ্ণ গলে গলে পিষে ফেলেছে। উদ্ধারকাজে রিকশা ও ট্রাকের সাহায্যে অনেক কষ্টে বেঁচে থাকা লোকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে ৪০ টিরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। আহতদের অবস্থা অনুসারে, গম্ভীর রক্তক্ষরণ, হাড় ভাঙ্গা এবং শ্বাসকষ্টের মত গুরুতর চোট পেয়েছেন। এখনই জরুরি রক্ত এবং শল্যচিকিৎসা চালু করা হয়েছে।
পুলিশের মুখ্য কমিশনারের নির্দেশে রেসারেশনের কারণ অনুসন্ধান চলছে। ড্রাইভারদের লাইসেন্স চেক করা হবে এবং সড়ক সিগন্যালের ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত মেরামত করা হবে। এছাড়া, রেসারেশনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ক্যামেরা ও ট্র্যাফিক পুলিশ বাড়াতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা শহরের ট্রাফিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। নাগরিকদের দাবি হচ্ছে, বাস চালকদের প্রশিক্ষণ ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ রেষারেষি আর না ঘটে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




