
‘শরীর আর দিচ্ছে না, কিন্তু লড়াই চলবে’, ১৯ দিনেও অনশনে অনড় সোনাম ওয়াংচুক
সোনাম ওয়াংচুক ১৯ দিন অনশনে বসে NEET পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তিনি দাবি করছেন, “শরীর আর দিচ্ছে না, কিন্তু লড়াই চলবে”।
নতুন দিল্লিতে NEET পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তীব্রতা পায়। এই দাবিকে সমর্থন করে দেশের শীর্ষ পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক হঠাৎ করে অনশনে বসে, ১৯ দিন পার হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “শরীর আর দিচ্ছে না, কিন্তু লড়াই বন্ধ হবে না” এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাহে নড়াচড়া করবেন না।
সোনামের হাঙ্গার স্ট্রাইকের ফলে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সেদিনের প্রাতঃরাশে তিনি মাত্র দু’টুকরা রুটি ও ফলই গ্রহন করেছেন, তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে অদম্য অবস্থান বজায় রেখেছেন। চিকিৎসকরা তাকে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন, তবে তিনি বললেন, “যদি সত্যিকারের পরিবর্তন না আসে, তবে আমি থামব না”।
রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী এই আন্দোলনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। কিছু দল সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু যুক্তি দিচ্ছে যে হাঙ্গার স্ট্রাইক দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তবু, সোনামের সমর্থকরা বলেন, তার দাবি ন্যায়সঙ্গত এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাড়া না দিলে সিস্টেমের বিশ্বাস হারাবে।
এই বিতর্কের মূল বিষয় হলো, একাডেমিক পরীক্ষার ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সোনামের অনশনের মাধ্যমে জনমত গঠিত হচ্ছে যে, কোনো মূল্যেও যদি শিক্ষার মান নষ্ট হয়, তবে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। ভবিষ্যতে নীতি গঠনে আরও কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে এই ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।
উপসংহারে বলা যায়, সোনাম ওয়াংচুকের ১৯ দিনব্যাপী হাঙ্গার স্ট্রাইক এক ধরনের সতর্কবার্তা, যা শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত কাজেই এই লড়াই শেষ হবে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।




