হায়দরাবাদে স্কুলে কোরান‑কলমা হোমওয়ার্ক‑এ যুক্তি‑বিতর্ক, ইমাম‑প্রধানের উগ্র মন্তব্যে তীব্র সাড়া
education5 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

হায়দরাবাদে স্কুলে কোরান‑কলমা হোমওয়ার্ক‑এ যুক্তি‑বিতর্ক, ইমাম‑প্রধানের উগ্র মন্তব্যে তীব্র সাড়া

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

হায়দরাবাদের একটি স্কুলে কোরান‑কলমা হোমওয়ার্কের নির্দেশ বিতর্কের মুখে, ইমাম‑প্রধানের “ঘৃণ্য অপরাধ” মন্তব্যে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

হায়দরাবাদের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হোমওয়ার্কে কোরান‑কলমা লেখা ও মুখস্থ করার নির্দেশ দেওয়া হলে তৎকালই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকের দাবি ছিল, ধর্মীয় শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিষ্য‑শিষ্যীর নৈতিক গুণবৃদ্ধি ঘটানো; তবে এই উদ্যোগকে “অমুসলিমদের কোরান‑কলমা শেখানো ঘৃণ্য অপরাধ” বলে ইমাম‑প্রধানের মন্তব্যে রূপান্তরিত হওয়ায় দেশব্যাপী ধর্ম‑সংবেদনশীলতা উস্কে দেওয়া হয়।

শিক্ষককে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হোমওয়ার্কে “কলমা” ও “আজান” সংক্রান্ত বাক্যগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় জ্ঞানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কোনো ধর্মান্তর‑উদ্দেশ্য নয়। তাছাড়া, বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত পাঠ্যক্রমে ধর্মনিরপেক্ষ বিষয়বস্তুও রয়েছে, তবে কোরান‑কলমা যোগ করা একটি ঐচ্ছিক অনুশীলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইমাম‑প্রধানের মন্তব্যের পর, হায়দরাবাদে বহু ধর্মীয় সংগঠন ও মানবাধিকার দলে একত্রিত হয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধর্মীয় পাঠ্যবস্তু বাধ্যতামূলক না করে, ছাত্র‑ছাত্রীর পছন্দের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবীভাবে দিতে হবে” বলে আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরা হয়।

বিপরীতে, কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ইমাম‑প্রধানের মন্তব্যকে সমর্থন করে, ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা ও সংহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরে। তারা দাবি করে, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া শিক্ষার মান সম্পূর্ণ হয় না এবং ধর্মীয় পাঠ্যবস্তু অন্তর্ভুক্তি সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে। এধরনের দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি হায়দরাবাদে ধর্ম‑শিক্ষা ও ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে চলমান টানাপোড়েনকে আরও জোরদার করেছে।

অবশেষে, এই বিতর্ক শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনকে প্রকাশ করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় বিষয়বস্তু যদি শিক্ষার্থীর স্বেচ্ছা এবং পারিবারিক অনুমোদনের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে তা কোনো বেআইনি কাজ নয়; তবে বাধ্যতামূলকভাবে অমুসলিমকে ধর্মীয় পাঠ শেখানো হলে তা সংবিধানিক গ্যারান্টি লঙ্ঘন করতে পারে। তাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্পষ্ট নীতি নির্ধারণের আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা পায়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX